তেহরান, ০২ জানুয়ারি – দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে ইরানজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ চতুর্থ দিনে আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে ৪ দেশের জাহাজে ইরানের বিশেষ ছাড়
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার লোরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরে বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রাস্তায় আগুন জ্বলতে দেখা যায় এবং গুলির শব্দের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের ‘লজ্জা! লজ্জা!’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।
এর আগে, চাহারমাহাল ও বাখতিয়ারি প্রদেশের লরদেগান শহরে বিক্ষোভে আরও দুজন নিহত হওয়ার খবর দেয় ফার্স। সংস্থাটি জানায়, কিছু বিক্ষোভকারী গভর্নরের কার্যালয়, মসজিদ, শহর হল ও ব্যাংকসহ সরকারি স্থাপনায় পাথর নিক্ষেপ করলে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে।
এদিকে, পশ্চিম ইরানের কুহদাশত শহরে রাতভর বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর এক সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। নিহত ব্যক্তি বাসিজ বাহিনীর ২১ বছর বয়সী সদস্য ছিলেন। বাসিজ বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত একটি স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী।
২০২২ ও ২০২৩ সালে মাসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল। সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলো শুরু হয় তেহরানে শান্তিপূর্ণভাবে এবং মঙ্গলবার অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেওয়ার পর তা আরও ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভকারীদের দাবিকে ‘ন্যায্য’ বলে উল্লেখ করে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবিকার সমস্যা সমাধান না করলে আমাদের পরিণতি ভালো হবে না।
সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, ট্রেড ইউনিয়ন ও ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ হবে। তবে একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতিকে অস্থিরতা সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: আরটিভি নিউজ
এনএন/ ০২ জানুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন