ঢাকা, ০৪ সেপ্টেম্বর – ঢাকার ম্যাট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের সামনেই এক সাংবাদিকের ওপর আইনজীবীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। কোর্ট চলাকালীন এজলাসে বিচারক থাকাকালে বেসরকারি টেলিভিশন ‘সময় টিভি’র আসিফ মোহাম্মদ সিয়াম নামে ওই সাংবাদিককে কয়েকজন আইনজীবী মিলে কিল, ঘুষি, লাথি মারেন। এতে গুরুত্বর আহত হন সিয়াম। এরপর তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাস পিয়াসের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
বরিশাল বোর্ডে এইচএসসিতে পাস করেছে ৪৪.৮৪%, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯৫০ শিক্ষার্থী
এদিন আসামি লতিফ সিদ্দিকী এবং সাংবাদিক পান্নার জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। লতিফ সিদ্দিকীকে আদালতে হাজির করা না হলেও সাংবাদিক পান্নাকে আদালতে হাজির করা হয়।
এই সংবাদ সংগ্রহ করতে আদালতে যান কয়েকজন সাংবাদিক। বিকেল ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে সাংবাদিক পান্নাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ৮ম তলায় ৩০নং এজলাসে তোলা হয়।
এসময় মোক্তাদির রশীদ নামে আন্তর্জাতিক একটি গণমাধ্যমের সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান পান্নার কাছে জানতে চান, কারাগারে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে কি না। এসময় এজলাসের বেঞ্চে বসে থাকা অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন মাহি আসামির সঙ্গে কথা বলার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। বিষয়টা নিয়ে কিছুটা তর্ক-বিতর্ক হয় তাদের। এসময় তাকে আদালত থেকে বের হয়ে যেতে বলেন অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন। ওই সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, আপনি কোর্ট ইন্সপেক্টর কি না? আমাকে বেরিয়ে যেতে বলছেন। বিচারক বললে আমি বেরিয়ে যাব। এরই মাঝে বিচারক এজলাসে ওঠেন। শাহবাগ থানার একটা মামলার শুনানি শুরু হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সিয়াম বলেন, কোনো কারণ ছাড়াই বিচারকের সামনে মব সৃষ্টি করে আমাকে মারধর করল কয়েকজন আইনজীবী। আমি এঘটনার বিচার চাই।
এরপর বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের আবার এজলাসে আসেন বিচারক। এরপর শুনানি নিয়ে আদালত লতিফ সিদ্দিকী এবং সাংবাদিক পান্নার জামিন আবেদন নাকচ করে দেয়।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির একটি প্রোগ্রাম থেকে লতিফ সিদ্দিকী, সাংবাদিক পান্নাসহ ১৬ জনকে আটক করা হয়। শুক্রবার শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধ আইনের গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে হেনস্তার শিকার বাংলা আউটলুকের সাংবাদিক মোকতাদির রমিদ রোমিও বলেন, সাংবাদিক পান্নাকে হেলমেট খোলার (কাঠগড়ায়) পরে পান্না পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন আপনারা এমন কেন করছেন আমি তো আপনাদের শত্রু নই।
আমি বলি, আদালত কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার ক্ষমতা কেবলমাত্র বিচারকের আছে। উনি বললে বের হয়ে যাব। ওনাকে বলতে দিন।
একথা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ওই আইনজীবী আমাকে মারতে উদ্ধত হলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন সাংবাদিক আসিফ মোহাম্মদ সিয়াম তাকে নিভৃত করার চেষ্টা করে।
কোর্টের নিয়ম রক্ষার জন্য আইনজীবীকে অনুরোধ করেন। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে, আইনজীবী সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক আসিফ মোহাম্মদ সিয়ামকে মারতে শুরু করে। আর একই সঙ্গে আমাকে ‘কুকুরের বাচ্চা, শুয়োরের বাচ্চা’ বলতে থাকে। পাশে পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল। নিছক দর্শকের মতোই।
সূত্র: আরটিভি নিউজ
এনএন/ ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন