রের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে আরাকান আর্মির (এএ) বন্দীদশা থেকে কৌশলে পালিয়ে নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর তিনজন মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিপি) সদস্যকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে করা হয়।
আটককৃতদের মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হবে বলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর টেকনাফ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিআরএম-৭ পিলার থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দক্ষিণ-পূর্বে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া বরফকল সংলগ্ন এলাকা থেকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজন বিজিপি সদস্যকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন কর্মকর্তা এবং দুজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, কড়া নজরে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, গত রোববার (১৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মংডু টাউনশিপের কাউয়ার বিল এলাকায় অবস্থিত আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন ১ নম্বর বিজিপি ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে বন্দি অবস্থায় ছিলেন তারা।
সুযোগ বুঝে সেখান থেকে পালিয়ে প্রায় ৬ কিলোমিটার দুর্গম পথ হেঁটে নাফ নদীর তীরে পৌঁছান। এরপর একটি ৫ লিটারের প্লাস্টিকের পানির জারিকেন ভাসমান সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করে টানা প্রায় দুই ঘণ্টা সাঁতরে বাংলাদেশের সীমান্তে প্রবেশ করেন।
বাংলাদেশে প্রবেশের পর তাদের গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে এবং তাদের আটক করে। পরে একজন বাংলাদেশি দোভাষীর সহায়তায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা নিজেদের পরিচয় ও বাংলাদেশে প্রবেশের ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।
আটক তিনজন হলেন—মংডু শহর পুলিশ স্টেশনের পুলিশ সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হেইন ডে হেট, পুলিশ ল্যান্স করপোরাল (এলসিপি) হেইন জাও এবং বুচিডং ৩ নম্বর বিজিপির পুলিশ এলসিপি লিজিওনেয়ার কিয়াও নাইং।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মিয়ানমারের তিনজন বিজিপি (পুলিশ) সদস্যকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে বিজিবি থানায় হস্তান্তর করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে কক্সবাজারের আদালতে পাঠানো হবেআদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে সীমান্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন সময়ে সংঘাতের জেরে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সাধারণ নাগরিক নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয়ের চেষ্টা করছেন। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনাটি সীমান্ত পরিস্থিতির নতুন একটি দিক তুলে ধরেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তেও পড়ছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের অভিমত।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: আরাকান আর্মির বন্দীদশা থেকে পালিয়ে নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশে, টেকনাফে আটক ৩ বিজিপি সদস্য সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: রের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপে আরাকান আর্মির (এএ) বন্দীদশা থেকে কৌশলে পালিয়ে নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর তিনজন মিয়ানমার সীমা। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন