কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক তিনটি অভিযানে মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৭১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি ৪৮ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা।
এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) পৃথক তিনটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় বুধবার (১৫ জুলাই) রাত ৯টা ৪০ মিনিটে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালংখালী বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্তের কাটাখাল এলাকায় অবস্থান নেয়।
হরমুজ প্রণালিতে ৪ দেশের জাহাজে ইরানের বিশেষ ছাড়
এ সময় তিনজন ব্যক্তি দুটি বস্তা নিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশের দিকে প্রবেশ করছিলেন। বিজিবি সদস্যরা তাঁদের চ্যালেঞ্জ করলে তাঁরা বস্তা ফেলে নাফ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পালিয়ে যান।
পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে দুটি বস্তার ভেতর থেকে ২৫টি প্যাকেটে রাখা ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে একই ব্যাটালিয়নের পালংখালী বিওপির আরেকটি বিশেষ টহল দল উখিয়ার আনজুমানপাড়া এলাকার খালের মুখে অভিযান চালায়।
এ সময় মিয়ানমার থেকে নদীপথে মাথায় একটি বস্তা নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের সময় হাফিজ উল্লাহ (২১) নামের এক যুবককে আটক করা হয়।
তিনি উখিয়ার বালুখালী এলাকার এফডিএমএন (রোহিঙ্গা) ক্যাম্প-১৮-এর বাসিন্দা।তাঁর বহন করা বস্তা তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে তিনি এ চালান বহন করছিলেন।
একই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় বিজিবির প্রশিক্ষিত নারকোটিকস ডগ ‘রকি’ অটোরিকশার যাত্রী আসনের নিচে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করে।
পরে সেখান থেকে ৭ হাজার ৭১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।এ ঘটনায় অটোরিকশার চালক ছৈয়দ করিম (৩৪)কে আটক করা হয়েছে। তিনি উখিয়া উপজেলার মধ্যম হলাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
বিজিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে কক্সবাজারে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, “সীমান্তকে মাদকমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদক চোরাকারবারী ও তাদের সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে বিজিবি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ও অন্যান্য অবৈধ পণ্যের চোরাচালান রোধে আমাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সহযোগিতা ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। তাই যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত বিজিবিকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা ইয়াবা, জব্দ করা সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং অন্যান্য আলামত আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। সীমান্তে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে ৬৪ বিজিবি নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি এবং চেকপোস্টে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে।।
এই তিনটি অভিযানে একদিনেই প্রায় ৩ লাখ ৭৮ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ হওয়ায় সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে এটিকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।




মন্তব্য করুন