তেহরান, ১৪ মার্চ – উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও সেনা উপস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরান।
দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, চলমান যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে এই অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো কাউকে সুরক্ষা দেয় না, বরং এগুলো একটি বড় হুমকি।
কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির দাবিও
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র শুধুমাত্র ইসরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে এবং অন্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে তাদের কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। যারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল, তারা কার্যত অরক্ষিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রাথমিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যসহ সেনাবাহিনীর শীর্ষ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
গত ১৫ দিন ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ইরানের লাগাতার হামলার মুখে মিত্র দেশগুলোর আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা বেশ চাপে পড়েছে।
এদিকে, তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করলেও দেশের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকারি কর্মকর্তাদের পরিশ্রমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানো ব্যাহত হয়নি।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সহায়তায় এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সব স্থাপনা আগের চেয়েও সুন্দরভাবে পুনর্নির্মাণ করা হবে।
এনএন/ ১৪ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন