প্যারিস, ২০ মার্চ – পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরল।
শুক্রবার তিনি জানান, নীতিনির্ধারক ও বাজার সংশ্লিষ্টরা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতিকে এখনো অবমূল্যায়ন করছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান এই সংঘাতকে এযাবৎকালের সবচেয়ে গুরুতর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, কড়া নজরে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ফাতিহ বিরল বর্তমান পরিস্থিতিকে ইতিহাসের বৃহত্তম বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকি বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, সত্তরের দশকের জ্বালানি সংকটের চেয়েও বর্তমানে বেশি পরিমাণ তেলের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এমনকি ২০২২ সালে ইউরোপে রাশিয়া যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছিল, বর্তমানে তার দ্বিগুণ পরিমাণ গ্যাস বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইইএ প্রধান বলেন, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে আটকে আছে। জ্বালানি সরবরাহের প্রধান পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শস্যের সার, প্লাস্টিক তৈরির পেট্রোকেমিক্যালস, পোশাক ও উৎপাদন শিল্পসহ সালফার ও হিলিয়ামের মতো অতি প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপসাগরীয় জ্বালানি রপ্তানির প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি সচল না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম বাড়তেই থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ইউরোপীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করারও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, কারণ মস্কোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ার পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করা ঠিক হবে না বলে মনে করেন তিনি।
এনএন/ ২০ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন