ঢাকা, ০৯ আগস্ট – দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত এক বছরে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজারের বেশি একর বনভূমি। এছাড়া বিলুপ্তপ্রায় প্রাণিসমূহ রক্ষায় পরিচালিত হয়েছে ২৯৩টি বিশেষ অভিযান, যাতে উদ্ধার করা হয়েছে ৫ হাজার ৬০০–এর বেশি বন্যপ্রাণী।
শুক্রবার (৮ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের এক বিবিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বুড়িমারী সীমান্তে লাইট বন্ধ করে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাধায় ব্যর্থ
এতে বলা হয়, গত এক বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিবেশ, বন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশের শপিংমলগুলোতে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। উৎপাদন কারখানা, কাঁচাবাজারসহ অন্যান্য স্থানে পলিথিন দমন অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিকল্প হিসেবে সুলভে পাটের ব্যাগ সরবরাহে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘ন্যাশনাল এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’ প্রণয়ন, ৮৩০টি অবৈধ ইটভাটা ভাঙা হয়েছে। ঢাকার সাভার-আশুলিয়াকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অবৈধ সীসা কারখানা বন্ধ এবং শব্দদূষণ রোধে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনে তরুণদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
একইসঙ্গে গাজীপুরে গাছা খাল দূষণ ও পলিথিন উৎপাদনকারী ৯টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের জন্য নতুন কর্মসূচি অনুমোদনসহ ৩৭টি নিজস্ব ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাহাড় সংরক্ষণে দেশের ১৬ জেলার দাগ খতিয়ানভুক্ত পাহাড়ের তালিকা অনলাইনে এন্ট্রি ও মনিটরিং শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ৩৫১ কোটি টাকার ৪১টি প্রকল্প অনুমোদন ও বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ চূড়ান্ত করা হয়েছে। দেশের একমাত্র প্রবালসমৃদ্ধ সেন্ট মার্টিন দ্বীপে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটন নিয়ন্ত্রণে সফল উদ্যোগের ফলে দ্বীপের প্রাণ-প্রকৃতি ফিরতে শুরু করেছে। দ্বীপের জন্য মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প কর্মসংস্থানে কার্যক্রম চলছে।
মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কক্সবাজার, সোনাদিয়া ও জাফর আলম ক্যাডেট কলেজের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ হাজার ৩২২ একর বনভূমি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পূর্বাচলের ১৪৪ একরকে বিশেষ জীববৈচিত্র্য এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। গত এক বছরে ৫০৯৩ একর দখলকৃত বনভূমি উদ্ধার করে বনায়ন করা হয়েছে। বহুল প্রত্যাশিত ইউক্যালিপটাস ও আকাশমনি গাছের চারা উৎপাদন ও রোপণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং মধুপুর শালবন পুনরুদ্ধারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুনতি বন ও শেরপুরের বনভূমি পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে হাতির করিডোর তৈরি ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সূত্র: আরটিভি নিউজ
এনএন/ ০৯ আগস্ট ২০২৫




মন্তব্য করুন