কক্সবাজারে ডিসি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলায় উত্তেজিত দর্শকদের তাণ্ডব ও স্টেডিয়াম ভাঙচুরের ঘটনায় জেলা প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পুলিশও এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন শনিবার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার বিকেলে স্টেডিয়ামে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “দুটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নেতৃত্বে কমিটি হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে, আর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অন্য কমিটি অতিরিক্ত টিকেট বিক্রি ও কালোবাজারির বিষয়টি তদন্ত করবে।”
জেলা প্রশাসক আরও জানান, “উত্তেজিত দর্শকরা স্টেডিয়াম ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেছে। গণপূর্ত বিভাগকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার ক্ষতি নিরূপণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, “এখন পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থা বা স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তের পর মামলা নথিভুক্ত করা হবে। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি দর্শক প্রবেশ করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রায় ৫০ হাজার দর্শক স্টেডিয়ামের ভিতরে ছিল এবং বাইরে আরও দর্শক টিকেট নিয়ে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছিল।” তিনি জানান, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী সর্বোচ্চ ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।
থাইল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সপ্তম হলো বাংলাদেশ হকি দল
সদর থানার ওসি মো. ইলিয়াস খান বলেন, “পুলিশের উপর হামলার বিষয়েও মামলা হবে, তবে সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।”
ফাইনাল ম্যাচটি শুক্রবার রামু ও টেকনাফ উপজেলার একাদশের মধ্যে বেলা ৩টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে খেলা শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুপুর ২টার মধ্যেই ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি দর্শক গ্যালারিতে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে উত্তেজিত দর্শকরা প্রবেশ গেইট ভেঙে মূল মাঠে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে মাঠ লোকে ভরে যায় এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
মাঠের ভেতর থেকে সেনাবাহিনী ও বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খেলা স্থগিত ঘোষণার পরও দর্শকরা আবারও মাঠে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। স্টেডিয়ামের ড্রেসিং রুম, প্রেসবক্স ও গোলপোস্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পুলিশ লাঠিপেটা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। এ সময় অন্তত ৫০ জন আহত হন, যার মধ্যে পুলিশ, আনসার ও দর্শকরা রয়েছেন।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার উভয়ই নিশ্চিত করেছেন, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
###




মন্তব্য করুন