হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

কক্সবাজার সৈকতে দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডোর তাণ্ডব

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিরল এক প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হলেন পর্যটকরা। গভীর সমুদ্রে ২০ মিনিট অবস্থানের পর একটি টর্নেডো উপকূলের দিকে ধেয়ে এসে সমুদ্রসৈতের সুগন্ধা ও সী-গাল পয়েন্ট এলাকায় আঘাত হানে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে দিকে উপকূলে আঘাত হানলেও যার স্থায়িত্ব ছিল ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড।

দুর্বল প্রকৃতির এই টর্নেডোতে পর্যটক, হকার ও ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ীসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি ছাতা-চেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সতর্কতা জারি করে পানিতে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনে লাইফ গার্ড সদস্যরা।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বরত সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টো জানান, ১৭ জুলাই ২০২৬ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী পয়েন্টের সোজা গভীর সমুদ্রে একটি টর্নেডো সৃষ্টি হয়। এটি প্রায় ২০ মিনিট সমুদ্রের ওপর অবস্থান করে। এ সময় সৈকতে থাকা অসংখ্য পর্যটক বিরল এ দৃশ্য উপভোগ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

আরও পড়ুন

হিমছড়িতে ডাকাতির অভিযোগ, জনতার মারধরে আহত সন্দেহভাজন হাসপাতালে

পরবর্তীতে টর্নেডোটি ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে লাইফ গার্ড সদস্যরা দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন। পানিতে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে উঠে আসার জন্য বারবার বাঁশি (উইসেল) বাজিয়ে সতর্ক করা হয়। তবে অনেক পর্যটক শুরুতে সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব দেননি।

জয়নাল আবেদীন ভূট্টো জানান, একপর্যায়ে টর্নেডোটি সুগন্ধা পয়েন্ট অতিক্রম করে সিগাল পয়েন্ট দিয়ে উপকূলে উঠে আসে। উপকূলে এটি প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। এ সময় পর্যটক, হকার ও ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ীসহ আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। এছাড়া সৈকতে থাকা ১০ থেকে ২০টি ছাতা ও চেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছে যে ঘূর্ণিবাতাস দেখা গেছে, সেটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন।

তিনি বলেন, টর্নেডো সাধারণত অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত। টর্নেডোর মূল ঘূর্ণি বা ফানেল অংশের সংস্পর্শে এলে মানুষ ও বিভিন্ন বস্তু বাতাসে ১০০ ফুট ওপরে উঠে যেতে পারে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই কৌতূহলবশত কাছাকাছি অবস্থান করা উচিত নয়।

আব্দুল হান্নান আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টর্নেডো দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে এর ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। বাংলাদেশেও অতীতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী টর্নেডোর ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রবণতা বেশি থাকলেও, অনুকূল আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে বছরের অন্য সময়েও টর্নেডো সৃষ্টি হতে পারে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

কক্সবাজার সৈকতে দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডোর তাণ্ডব

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

কক্সবাজার সৈকতে দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডোর তাণ্ডব

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বিরল এক প্রাকৃতিক ঘটনার সাক্ষী হলেন পর্যটকরা। গভীর সমুদ্রে ২০ মিনিট অবস্থানের পর একটি টর্নেডো উপকূলের দিকে ধেয়ে এসে সমুদ্রসৈতের সুগন্ধা ও সী-গাল পয়েন্ট এলাকায় আঘাত হানে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুর ২ টা ২০ মিনিটে দিকে উপকূলে আঘাত হানলেও যার স্থায়িত্ব ছিল ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড। দুর্বল প্রকৃতির এই টর্নেডোতে পর্যটক, হকার ও ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ীসহ অন্তত ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি ছাতা-চেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সতর্কতা জারি করে পানিতে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনে লাইফ গার্ড সদস্যরা। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বরত সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টো জানান, ১৭ জুলাই ২০২৬ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কলাতলী পয়েন্টের সোজা গভীর সমুদ্রে একটি টর্নেডো সৃষ্টি হয়। এটি প্রায় ২০ মিনিট সমুদ্রের ওপর অবস্থান করে। এ সময় সৈকতে থাকা অসংখ্য পর্যটক বিরল এ দৃশ্য উপভোগ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে টর্নেডোটি ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে লাইফ গার্ড সদস্যরা দ্রুত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেন। পানিতে অবস্থানরত পর্যটকদের নিরাপদে উঠে আসার জন্য বারবার বাঁশি (উইসেল) বাজিয়ে সতর্ক করা হয়। তবে অনেক পর্যটক শুরুতে সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব দেননি। জয়নাল আবেদীন ভূট্টো জানান, একপর্যায়ে টর্নেডোটি সুগন্ধা পয়েন্ট অতিক্রম করে সিগাল পয়েন্ট দিয়ে উপকূলে উঠে আসে। উপকূলে এটি প্রায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। এ সময় পর্যটক, হকার ও ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ীসহ আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ জন আহত হন। এছাড়া সৈকতে থাকা ১০ থেকে ২০টি ছাতা ও চেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছে যে ঘূর্ণিবাতাস দেখা গেছে, সেটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। তিনি জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি বলেন, টর্নেডো সাধারণত অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত। টর্নেডোর মূল ঘূর্ণি বা ফানেল অংশের সংস্পর্শে এলে মানুষ ও বিভিন্ন বস্তু বাতাসে ১০০ ফুট ওপরে উঠে যেতে পারে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই কৌতূহলবশত কাছাকাছি অবস্থান করা উচিত নয়। আব্দুল হান্নান আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টর্নেডো দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে এর ঘটনা তুলনামূলক বেশি ঘটে। বাংলাদেশেও অতীতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী টর্নেডোর ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রবণতা বেশি থাকলেও, অনুকূল আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে বছরের অন্য সময়েও টর্নেডো সৃষ্টি হতে পারে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×