গাজা উপত্যকা, ১ ফেব্রুয়ারি – ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শনিবার ইসরায়েলের টানা বিমান হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে। হামাস পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি নিশ্চিত করেছে যে নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায় যে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসে বাস্তুচ্যুতদের একটি তাঁবু লক্ষ্য করে হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনিদের মতে গত অক্টোবর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হওয়ার পর এমন ভয়াবহ হামলা আর দেখা যায়নি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে শুক্রবার হামাস যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং এর প্রতিক্রিয়ায় একাধিক হামলা চালানো হয়েছে।
৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা
গত বছর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ করে আসছে। এক বিবৃতিতে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফ দাবি করে যে পূর্ব রাফা এলাকায় ভূগর্ভস্থ সন্ত্রাসী অবকাঠামো থেকে বেরিয়ে আসা আটজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে অঞ্চলটি অক্টোবর চুক্তির আওতায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইডিএফ আরও জানায় ইসরায়েল সিকিউরিটি এজেন্সির সঙ্গে যৌথভাবে তারা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে
হামাস এসব হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে চুক্তির এই লঙ্ঘন প্রমাণ করে যে ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় তাদের নির্মম যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে। হামাসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে নিহতদের মধ্যে সাতজন ছিলেন খান ইউনিসের একটি বাস্তুচ্যুত পরিবারের সদস্য। সিভিল ডিফেন্সের একজন মুখপাত্র জানান হামলায় আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট এবং তাঁবুর পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্র ও একটি পুলিশ স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজা সিটির শিফা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান শহরে চালানো একটি বিমান হামলায় একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে তিন শিশু ও দুই নারী নিহত হন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায় গাজা সিটিতে একটি পুলিশ স্টেশনেও হামলা হয়েছে এবং এতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সর্বশেষ জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করার পর গাজার মিসর সীমান্তবর্তী রাফা ক্রসিং রোববার পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। ঠিক এমন সময়েই এই হামলার ঘটনা ঘটল। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। যুদ্ধবিরতি আলোচনার অন্যতম মধ্যস্থতাকারী কাতারও হামলার নিন্দা জানিয়েছে।




মন্তব্য করুন