হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

চকরিয়ায় বেড়েছে বাল্য বিয়ের প্রবণতা, মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বসছে বিয়ের পীড়িতে!

নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া::

নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া::

রবিবার, ২৪ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৫ অপরাহ্ন

চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়োজিত কাজীদের বাণিজের সুযোগে ইদানিং বাল্য বিয়ের প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের কাবিননামা সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে নিয়োগপত্র কাজী এবং তাদের সহকারীরা টাকার বিনিময়ে বিয়ের আইন কানুন বারবার উপেক্ষা করে চলছে। বিশেষ করে বর- কণে পক্ষের অনুরোধ কাজে লাগিয়ে এলাকাভিত্তিক নিকাহ রেজিস্ট্রার তথা কাজীরা টাকার বিনিময়ে অপ্রাপ্ত বয়সের মেয়েদের বিয়ের পীড়িতে বসার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এতে করে বাড়ছে বাল্য বিয়ের প্রবণতা।

সম্প্রতি সময়ে চকরিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাহারিয়াঘোনা খামারপাড়া এলাকায় ঘটেছে এধরণের একটি বাল্য বিয়ের ঘটনা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ের পীড়িতে বসেছেন ফাতেমা জান্নাত ছুবা নামের মাদরাসা পড়ুয়া অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে।

এলাকাবাসী সুত্রে অভিযোগ উঠেছে, পরিবার তথা মা-বাবার ইচ্ছার ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুশকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা মনিরুল হকের ছেলে সায়মুন আজাদ নামের বিদেশ ফেরত যুবকের সঙ্গে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ের পীড়িতে বসতে হচ্ছে চকরিয়া উম্মাহাতুল মো’মেনীন মহিলা দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছুবাকে। এ অবস্থায় ২০ দিনের বেশি সময় ধরে মাদরাসায় লেখাপড়া করতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ওই ছাত্রী।
সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মনুপাড়া থেকে বরপক্ষের লোকজন চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা খামারপাড়া এলাকায় মেয়ের বাড়িতে এসে বিয়ের কথাবার্তা চুড়ান্ত করেছে। তবে কনে এখনো অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় বিয়ের কাবিননামা সম্পাদনে নানামুখী ঝামেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানতে চাইলে চকরিয়া উম্মাহাতুল মো’মেনীন মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আবদুল হোসেন আনসারী বলেন, মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা জান্নাত ছুবা বেশকিছু দিন হচ্ছে লেখাপড়া করতে আসছে না। শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে আমি তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে পারি। আমরা মনে করেছিলাম, ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়েছেন, সেইজন্য মাদরাসায় আসছে না।

আরও পড়ুন

৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

তিনি বলেন, এরই মধ্যে একদিন ওই ছাত্রীর বাবা রশিদ আহমদ মাদরাসায় এসে অফিস সহকারীর সঙ্গে কথা বলতে দেখি। পরে আমি অফিস সহকারীর কাছে জানতে চাই, ছাত্রী ছুবার বাবা কীজন্য এসেছে, তখন অফিস সহকারী উত্তর দেন, ছুবাকে বিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু তার বয়স কম হওয়ায় জন্ম নিবন্ধনে বয়স বাড়াতে মাদরাসা থেকে বয়স বাড়িয়ে একটি ছাড়পত্র চান। তাৎক্ষণিক আমি অফিস সহকারীকে এধরণের কাজ করে বিরত থাকতে নির্দেশ দিই।
এরপর জানতে পারি ওই ছাত্রীকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে তাঁর পরিবার। অথচ তাঁর বয়স হবে তের অথবা চৌদ্দ। তিনি এধরণের বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

এব্যাপারে চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার রুপায়ন দেব বলেন, বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রশাসন সবসময় কঠোর ভুমিকা পালন করে। তাই বয়স কম অথচ কৌশলে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে লিখেছে কাজী। এধরণের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কাজীর সনদ বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
একইভাবে, মাদরাসা ছাত্রীর বাল্য বিয়ের বিষয়টি সত্য মিথ্যা খোজ-খবর নেওয়া হবে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হবে। এরপর এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ##

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

চকরিয়ায় বেড়েছে বাল্য বিয়ের প্রবণতা, মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বসছে বিয়ের পীড়িতে!

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

চকরিয়ায় বেড়েছে বাল্য বিয়ের প্রবণতা, মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বসছে বিয়ের পীড়িতে!

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া:: | প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
Print Image
চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়োজিত কাজীদের বাণিজের সুযোগে ইদানিং বাল্য বিয়ের প্রবণতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের কাবিননামা সম্পাদনের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে নিয়োগপত্র কাজী এবং তাদের সহকারীরা টাকার বিনিময়ে বিয়ের আইন কানুন বারবার উপেক্ষা করে চলছে। বিশেষ করে বর- কণে পক্ষের অনুরোধ কাজে লাগিয়ে এলাকাভিত্তিক নিকাহ রেজিস্ট্রার তথা কাজীরা টাকার বিনিময়ে অপ্রাপ্ত বয়সের মেয়েদের বিয়ের পীড়িতে বসার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এতে করে বাড়ছে বাল্য বিয়ের প্রবণতা। সম্প্রতি সময়ে চকরিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাহারিয়াঘোনা খামারপাড়া এলাকায় ঘটেছে এধরণের একটি বাল্য বিয়ের ঘটনা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ের পীড়িতে বসেছেন ফাতেমা জান্নাত ছুবা নামের মাদরাসা পড়ুয়া অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে। এলাকাবাসী সুত্রে অভিযোগ উঠেছে, পরিবার তথা মা-বাবার ইচ্ছার ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর উপজেলার খরুশকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা মনিরুল হকের ছেলে সায়মুন আজাদ নামের বিদেশ ফেরত যুবকের সঙ্গে মাত্র ১৩ বছর বয়সে বিয়ের পীড়িতে বসতে হচ্ছে চকরিয়া উম্মাহাতুল মো’মেনীন মহিলা দাখিল মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছুবাকে। এ অবস্থায় ২০ দিনের বেশি সময় ধরে মাদরাসায় লেখাপড়া করতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ওই ছাত্রী। সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মনুপাড়া থেকে বরপক্ষের লোকজন চকরিয়া পৌরসভার কাহারিয়াঘোনা খামারপাড়া এলাকায় মেয়ের বাড়িতে এসে বিয়ের কথাবার্তা চুড়ান্ত করেছে। তবে কনে এখনো অপ্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ায় বিয়ের কাবিননামা সম্পাদনে নানামুখী ঝামেলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। জানতে চাইলে চকরিয়া উম্মাহাতুল মো’মেনীন মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আবদুল হোসেন আনসারী বলেন, মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা জান্নাত ছুবা বেশকিছু দিন হচ্ছে লেখাপড়া করতে আসছে না। শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে আমি তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়টি জানতে পারি। আমরা মনে করেছিলাম, ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়েছেন, সেইজন্য মাদরাসায় আসছে না। তিনি বলেন, এরই মধ্যে একদিন ওই ছাত্রীর বাবা রশিদ আহমদ মাদরাসায় এসে অফিস সহকারীর সঙ্গে কথা বলতে দেখি। পরে আমি অফিস সহকারীর কাছে জানতে চাই, ছাত্রী ছুবার বাবা কীজন্য এসেছে, তখন অফিস সহকারী উত্তর দেন, ছুবাকে বিয়ে দিচ্ছে, কিন্তু তার বয়স কম হওয়ায় জন্ম নিবন্ধনে বয়স বাড়াতে মাদরাসা থেকে বয়স বাড়িয়ে একটি ছাড়পত্র চান। তাৎক্ষণিক আমি অফিস সহকারীকে এধরণের কাজ করে বিরত থাকতে নির্দেশ দিই। এরপর জানতে পারি ওই ছাত্রীকে জোর করে বিয়ে দিচ্ছে তাঁর পরিবার। অথচ তাঁর বয়স হবে তের অথবা চৌদ্দ। তিনি এধরণের বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। এব্যাপারে চকরিয়া উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার রুপায়ন দেব বলেন, বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রশাসন সবসময় কঠোর ভুমিকা পালন করে। তাই বয়স কম অথচ কৌশলে বয়স বাড়িয়ে বিয়ে লিখেছে কাজী। এধরণের অসঙ্গতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কাজীর সনদ বাতিলের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইভাবে, মাদরাসা ছাত্রীর বাল্য বিয়ের বিষয়টি সত্য মিথ্যা খোজ-খবর নেওয়া হবে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হবে। এরপর এবিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ##

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×