ঢাকা, ২৭ আগস্ট – অন্যায়ের বিরুদ্ধে দ্রোহ, মানবতার প্রেম ও সাম্যের চেতনায় দীপ্ত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আজ ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার পিজি হাসপাতালে (বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের চুরুলিয়ায় জন্ম নেওয়া নজরুলের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হন তিনি। সৃষ্টিশীল ছিলেন মাত্র ২৩ বছর, তবে তার কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যে এক নবজাগরণ সৃষ্টি করে।
ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ
‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে খ্যাত নজরুল একইসঙ্গে প্রেমের কবি। নিজেই বলেছিলেন—‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী, আর হাতে রণতূর্য।’ তার রচনা যুগে যুগে মানুষকে শোষণ–বঞ্চনা থেকে মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে।
বিংশ শতাব্দীর বাঙালির মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। তার কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ। তার কবিতা ও গানের জনপ্রিয়তা বাংলাভাষী পাঠকের মধ্যে তুঙ্গস্পর্শী। তিনি বাংলা সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য। তার মানবিকতা, ঔপনিবেশিক শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ, ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধতা বোধ এবং নারী-পুরুষের সমতার বন্দনা গত প্রায় একশত বছর যাবৎ বাঙালির মানসপট গঠনে ভূমিকা রেখে চলেছে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে নজরুলকে ভারত থেকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয়। জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে ধানমন্ডিতে বাসস্থানের ব্যবস্থা করে সরকার। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডি.লিট উপাধি দেওয়া হয়। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে নাগরিকত্ব দেয় এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
নজরুল সাম্যবাদের একজন অগ্রদূত ছিলেন। তিনি মুসলিম হয়েও চার সন্তানের নাম বাংলা এবং আরবি-ফারসি উভয় ভাষায়ই নামকরণ করেন। যথা- কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ (বুলবুল), কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ।
জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সকাল ৮টায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মৃত্যুবার্ষিকীর কর্মসূচি। বাংলা একাডেমি কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বিকেল ৪টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘নজরুলের মৌলচেতনা অদ্বৈতবাদী সমন্বয়ের’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন নজরুল গবেষক অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন নজরুল গবেষক ড. সৈয়দা মোতাহেরা বানু এবং কবি ও প্রাবন্ধিক কাজী নাসির মামুন। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
সূত্র: আরটিভি নিউজ
এনএন/ ২৭ আগস্ট ২০২৫




মন্তব্য করুন