কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার গভীর পাহাড়ি এলাকা থেকে নারী-শিশুসহ ২১ জনকে মালয়েশিয়া পাচারের আগেই উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, কয়েকজন নারী, শিশু ও যুবককে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বাহারছড়ার করাচিপাড়া ঘাট সংলগ্ন একটি পাহাড়ি আস্তানায় আটকে রাখা হয়েছে।
পরে বুধবার (১ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর একটি যৌথ দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে ওই আস্তানা থেকে ২১ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, কড়া নজরে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
অভিযানের সময় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা পালিয়ে যায়, ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পাচারকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক।
তিনি বলেন, “মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।”
এর আগেও টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় একাধিক অভিযানে বহু নারী, শিশু ও যুবককে পাচার হওয়ার আগেই উদ্ধার করা হয়েছে: এ পর্যন্ত ১৬২ জন উদ্ধার করেন। এর মধ্যে বেশির ভাগ রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা নাগরিক, বাকিরা বাংলাদেশি। পাচারকারীরা সাগরপথে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তবর্তী টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলকে গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
নিয়মিত অভিযান চালিয়েও পাচারকারীদের দমন করা যাচ্ছে না, বরং তারা নতুন নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে।




মন্তব্য করুন