কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক রোহিঙ্গা দম্পতিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রবিবার (৫ অক্টোবর) ভোরে টেকনাফ পৌরসভার ইসলামাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, মিয়ানমার থেকে পাচার হওয়া ইয়াবার একটি চালান টেকনাফ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামাবাদ এলাকায় গোপনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের নেতৃত্বে রাত ২টার দিকে একটি বিশেষ টহল দল ইসলামাবাদ এলাকায় অভিযান শুরু করে।
অভিযানকালে নেজাম নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে মোহাম্মদ আইয়ুব (৩৭) এবং তার স্ত্রী রাবিয়া (৩৫)-কে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি এবং বিজিবির বিশেষ ডগ স্কোয়াডের (কে-নাইন) অনুসন্ধানে বাসা থেকে মোট ৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
ইনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন গ্যাসের আগুন ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎহীন ৩ হাজার ৮০০ পরিবার
তল্লাশি ও তদন্তে জানা যায়, আটককৃত মোহাম্মদ আইয়ুব ২৭ নম্বর জাদিমোড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একজন নিবন্ধিত (FDMN) সদস্য।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছিল। ক্যাম্পের ঠিকানায় না থেকে সে রাজমিস্ত্রি, অটো মেকার ও অটো চালকের পেশার আড়ালে ইসলামাবাদ এলাকায় একাধিক বাসা পরিবর্তন করে ভাড়া নিয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল।
সে মাদক কারবারি ইসমাইলের সহযোগী হিসেবে মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এনে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দিত এবং তার স্ত্রীও এই অবৈধ কার্যক্রমে সহযোগিতা করত।
আটককৃত এই রোহিঙ্গা দম্পতির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে স্থানীয় থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পলাতক মাদক কারবারি মো. ইসমাইলের খোঁজে অভিযান অব্যাহত আছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন, এফডিএমএন পরিচয়ে ক্যাম্পের বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি অব্যাহত থাকবে।




মন্তব্য করুন