মাদক ও মানবপাচার রোধে টেকনাফ সীমান্তজুড়ে ‘কম্ব্যাট অ্যালার্ট’ ঘোষণা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২ বিজিবির বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন ক্লাস্টার’ চলছে টানা কয়েকদিন ধরে। এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার ও মানবপাচারের ১৩ ভুক্তভোগীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজিবির সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতভর টেকনাফের জাহাজপুরা ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি ধানক্ষেতে লুকানো অবস্থায় ১৩ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়, যারা মানবপাচারের শিকার হয়ে মিয়ানমার সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
একইসঙ্গে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একটি বড় বস্তার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ৬০,০০০ (ষাট হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দেশীয় চোলাই মদ ৩৪ লিটার জব্দ করে বিজিবি।
আটককৃতরা হলেন কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র মোঃ আব্দুল্লাহ (৩৫) ও জাহাজপুরা গ্রামের মোঃ হামিদের পুত্র মোঃ জয়নাল (২০)।
কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির দাবিও
২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন,মাদক ও মানবপাচার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় এখন ‘কম্ব্যাট অ্যালার্ট’ জারি রয়েছে। যেকোনো মূল্যে এই অপরাধচক্রের শেকড় উপড়ে ফেলতে বিজিবি সর্বোচ্চ প্রস্তুত।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও মানবপাচারকারীদের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি মিয়ানমার সীমান্তের অস্থিরতা ও রোহিঙ্গা শিবিরকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের কারণে পাচারকারীরা নতুন কৌশলে সক্রিয় হয়ে উঠেছিল। এ প্রেক্ষাপটে বিজিবির এই বিশেষ অভিযানকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন।




মন্তব্য করুন