হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

টেকনাফ স্থলবন্দরে ভিড়ছে পণ্যবাহী জাহাজ, স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন

নাফনদীর ওপারে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের কোথাও গত চার দিন ধরে মর্টার শেল, গ্রেনেড বোমার বিস্ফোরণ শোনা যায়নি। এতে নাফনদীর এপারে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিথুয়ে (আকিয়াব) বন্দর থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি পণ্যবোঝাই কার্গো ট্রলার ও জাহাজ আসা যাওয়া করেছে।

সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার জেলে আবদুল হামিদ ও আলী হোসেন বলেন, গত তিন রাত সেন্টমার্টিনের মানুষ মর্টার শেলের বিস্ফোরণ শুনতে পাননি, ভালোভাবে ঘুমাতে পেরেছেন। অথচ বৃহস্পতি ও শুক্রবার পুরো দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আক্তার কামাল বলেন, গত চার দিন ওপার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ আসেনি। তবে যেকোনো সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, টানা দেড় মাসের বেশি সময় ধরে রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সে দেশের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই চলছে। ইতিমধ্যে মংডু টাউনশিপের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের রাচিডং টাউনশিপসহ ১২টি থানা আরাকান আর্মি দখলে নিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে টিকতে না পারে কয়েক দিন আগে তিনজন সেনাসদস্য নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

আরও পড়ুন

৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

এর আগে ১১ মার্চ আশ্রয় নেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির ১৭৭ জন সদস্য। শনিবার (৩০ মার্চ ) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তাসহ ৩ সদস্য আশ্রয় নিয়েছে। তাঁরা সবাই নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) হেফাজতে রয়েছেন। কয়েক মাস আগে কয়েক দফায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৩৩০ জন সেনা ও বিজিপি সদস্য। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়।

এদিকে পরিস্থিতি শান্ত থাকায় টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি হচ্ছে। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বিকেলে স্থলবন্দরে দেখা গেছে, সিথুয়ে থেকে আমদানি পণ্যবোঝাই দুটি ট্রলার বন্দরে ভিড়েছে। শ্রমিকেরা ট্রলার থেকে নারকেল, আচার, মুগ ডাল, শুঁটকি, শুকনো সুপারি, কাঠ ও হিমায়িত মাছ খালাস করা হচ্ছে।

ট্রলারের পণ্য আমদানিকারক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, রাখাইন রাজ্যের দেড় মাসের টানা সংঘাতে টেকনাফ স্থলবন্দরে ৮০ শতাংশ পণ্য আমদানি কমে গেছে। আগে দৈনিক ১৫ থেকে ২০টি পণ্যবোঝাই ট্রলার-জাহাজ এলেও এখন আসছে সপ্তাহে সাত-আটটি। সংঘাত বেড়ে গেলে আবারও স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এদিকে গত আট দিনে সিথুয়ে থেকে পণ্য বোঝাই ১২টি কার্গো ট্রলার বন্দরে ভিড়েছে জানিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক বিভাগের কাস্টমস সুপার বি এম আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, রাখাইন রাজ্যের সংঘাতের কারণে সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। রাজস্ব আয় কমে গেছে। গত জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মায়ানমারে পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

টেকনাফ স্থলবন্দরে ভিড়ছে পণ্যবাহী জাহাজ, স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

টেকনাফ স্থলবন্দরে ভিড়ছে পণ্যবাহী জাহাজ, স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৫৬ অপরাহ্ন
Print Image
নাফনদীর ওপারে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু টাউনশিপের কোথাও গত চার দিন ধরে মর্টার শেল, গ্রেনেড বোমার বিস্ফোরণ শোনা যায়নি। এতে নাফনদীর এপারে টেকনাফ সীমান্তের মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিথুয়ে (আকিয়াব) বন্দর থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে আমদানি পণ্যবোঝাই কার্গো ট্রলার ও জাহাজ আসা যাওয়া করেছে। সেন্টমার্টিন দ্বীপের পশ্চিমপাড়ার জেলে আবদুল হামিদ ও আলী হোসেন বলেন, গত তিন রাত সেন্টমার্টিনের মানুষ মর্টার শেলের বিস্ফোরণ শুনতে পাননি, ভালোভাবে ঘুমাতে পেরেছেন। অথচ বৃহস্পতি ও শুক্রবার পুরো দ্বীপে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আক্তার কামাল বলেন, গত চার দিন ওপার থেকে বিস্ফোরণের শব্দ আসেনি। তবে যেকোনো সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার সংঘাত শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, টানা দেড় মাসের বেশি সময় ধরে রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সে দেশের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই চলছে। ইতিমধ্যে মংডু টাউনশিপের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের রাচিডং টাউনশিপসহ ১২টি থানা আরাকান আর্মি দখলে নিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে টিকতে না পারে কয়েক দিন আগে তিনজন সেনাসদস্য নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। এর আগে ১১ মার্চ আশ্রয় নেন মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির ১৭৭ জন সদস্য। শনিবার (৩০ মার্চ ) বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তাসহ ৩ সদস্য আশ্রয় নিয়েছে। তাঁরা সবাই নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) হেফাজতে রয়েছেন। কয়েক মাস আগে কয়েক দফায় বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৩৩০ জন সেনা ও বিজিপি সদস্য। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের ফেরত পাঠানো হয়। এদিকে পরিস্থিতি শান্ত থাকায় টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি হচ্ছে। মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বিকেলে স্থলবন্দরে দেখা গেছে, সিথুয়ে থেকে আমদানি পণ্যবোঝাই দুটি ট্রলার বন্দরে ভিড়েছে। শ্রমিকেরা ট্রলার থেকে নারকেল, আচার, মুগ ডাল, শুঁটকি, শুকনো সুপারি, কাঠ ও হিমায়িত মাছ খালাস করা হচ্ছে। ট্রলারের পণ্য আমদানিকারক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, রাখাইন রাজ্যের দেড় মাসের টানা সংঘাতে টেকনাফ স্থলবন্দরে ৮০ শতাংশ পণ্য আমদানি কমে গেছে। আগে দৈনিক ১৫ থেকে ২০টি পণ্যবোঝাই ট্রলার-জাহাজ এলেও এখন আসছে সপ্তাহে সাত-আটটি। সংঘাত বেড়ে গেলে আবারও স্থলবন্দরে পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এদিকে গত আট দিনে সিথুয়ে থেকে পণ্য বোঝাই ১২টি কার্গো ট্রলার বন্দরে ভিড়েছে জানিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক বিভাগের কাস্টমস সুপার বি এম আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, রাখাইন রাজ্যের সংঘাতের কারণে সীমান্ত বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। রাজস্ব আয় কমে গেছে। গত জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মায়ানমারে পণ্য রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×