হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

ডুলাহাজারায় কলেজ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারায় কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সংঘটিত এই ঘটনার ভিডিও গতকাল সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

মেয়েটির পরিবার সূত্র জানিয়েছে, লজ্জায় আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে–এই আশঙ্কায় ওই শিক্ষার্থীকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রেখেছে তার পরিবার। তার সঙ্গে সবসময় পরিবারের কেউ না কেউ থাকছেন।

ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, ডুলাহাজারা কলেজের এইচএসসিতে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থী কয়েকদিন আগে ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে সংঘবদ্ধ চক্র তাকে তুলে নিয়ে যায় গোপন আস্তানায়। সেখানে আটকে রেখে একাধিক যুবক তাকে ধর্ষণ করে। গণধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে রাখে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর উদ্ধৃতি দিয়ে তার বাবা জানান, ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের উলুবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও উলুবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শওকত ওসমানের ছেলে শাহরিয়ার মো. হৃদয় (২২) কয়েকজন সহযোগী নিয়ে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা থেকে তুলে নেয়। এরপর স্থানীয় সাফারি পার্কের আশপাশে গোপন আস্তানার একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে গণধর্ষণ করে ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে তারা।

আরও পড়ুন

৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

ভিডিওচিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন এমন কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধর্ষণকাণ্ডের ভিডিওচিত্র ধারণের সময় মেয়েটিকে বারবার হুমকি দিচ্ছিল শাহরিয়ার মো. হৃদয়। হৃদয় বলছিল, এই ঘটনা কাউকে বললে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই দেখ, ভিডিওতে সবকিছু উঠে গেছে। যখনই ডাক দেওয়া হবে তখনই এখানে হাজির হতে হবে। ঘটনার পর বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে জানায় মেয়েটি। তখন পরিবারের সদস্যরা জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেন।

অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রমজান আলী তাতে বাঁধ সাধেন। কারণ শাহরিয়ার মো. হৃদয় রমজান আলীর চাচাত ভাই।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ঘটনার পর মেয়ে বাড়িতে এসে মাকে সবকিছু খুলে বলে। তখনই মামলা করার উদ্যোগ নিলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছেন মেম্বার রমজান আলী। এই অবস্থায় মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। বাড়ি থেকে বের হলে কোথায় যাচ্ছি, কার সাথে কথা বলছি তা জানার জন্য পেছনে লোক লাগিয়ে রেখেছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. রমজান আলীকে ফোন করা হয়। কিন্তু মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। শাহরিয়ার মো. হৃদয়ের বাবা মাস্টার শওকত ওসমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্তসহ তার পরিবারের সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর বলেন, এই ধর্ষক–বখাটেচক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের মানুষ। এমনকি সাফারি পার্কের বাইরে পর্যটক–দর্শনার্থীরাও প্রতিনিয়ত নানা অঘটনের শিকার হচ্ছেন। এই অবস্থায় আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবদুল জব্বার বলেন, কলেজ শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর পর ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে। এই জঘন্যতম ঘটনার আশ্রয়দাতা যে, তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীর বাবাকে বলা হয়েছে থানায় এজাহার দিতে। পাশাপাশি পুরো পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

ডুলাহাজারায় কলেজ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

ডুলাহাজারায় কলেজ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: বুধবার, ১২ জুলাই ২০২৩, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের চকরিয়ার ডুলাহাজারায় কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সংঘটিত এই ঘটনার ভিডিও গতকাল সোমবার সকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েটির পরিবার সূত্র জানিয়েছে, লজ্জায় আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে–এই আশঙ্কায় ওই শিক্ষার্থীকে কঠোর নজরদারির মধ্যে রেখেছে তার পরিবার। তার সঙ্গে সবসময় পরিবারের কেউ না কেউ থাকছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, ডুলাহাজারা কলেজের এইচএসসিতে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থী কয়েকদিন আগে ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে সংঘবদ্ধ চক্র তাকে তুলে নিয়ে যায় গোপন আস্তানায়। সেখানে আটকে রেখে একাধিক যুবক তাকে ধর্ষণ করে। গণধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে রাখে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর উদ্ধৃতি দিয়ে তার বাবা জানান, ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের উলুবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও উলুবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শওকত ওসমানের ছেলে শাহরিয়ার মো. হৃদয় (২২) কয়েকজন সহযোগী নিয়ে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তা থেকে তুলে নেয়। এরপর স্থানীয় সাফারি পার্কের আশপাশে গোপন আস্তানার একটি কক্ষে আটকে রাখে। সেখানে গণধর্ষণ করে ও ভিডিওচিত্র ধারণ করে তারা। ভিডিওচিত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছেন এমন কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধর্ষণকাণ্ডের ভিডিওচিত্র ধারণের সময় মেয়েটিকে বারবার হুমকি দিচ্ছিল শাহরিয়ার মো. হৃদয়। হৃদয় বলছিল, এই ঘটনা কাউকে বললে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই দেখ, ভিডিওতে সবকিছু উঠে গেছে। যখনই ডাক দেওয়া হবে তখনই এখানে হাজির হতে হবে। ঘটনার পর বিষয়টি বাড়িতে গিয়ে জানায় মেয়েটি। তখন পরিবারের সদস্যরা জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেন। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রমজান আলী তাতে বাঁধ সাধেন। কারণ শাহরিয়ার মো. হৃদয় রমজান আলীর চাচাত ভাই। এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ঘটনার পর মেয়ে বাড়িতে এসে মাকে সবকিছু খুলে বলে। তখনই মামলা করার উদ্যোগ নিলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছেন মেম্বার রমজান আলী। এই অবস্থায় মেয়েসহ পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। বাড়ি থেকে বের হলে কোথায় যাচ্ছি, কার সাথে কথা বলছি তা জানার জন্য পেছনে লোক লাগিয়ে রেখেছে। এ বিষয়ে কথা বলতে ডুলাহাজারা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মো. রমজান আলীকে ফোন করা হয়। কিন্তু মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। শাহরিয়ার মো. হৃদয়ের বাবা মাস্টার শওকত ওসমানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্তসহ তার পরিবারের সদস্যরা গা ঢাকা দিয়েছে। ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর বলেন, এই ধর্ষক–বখাটেচক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে ইউনিয়নের মানুষ। এমনকি সাফারি পার্কের বাইরে পর্যটক–দর্শনার্থীরাও প্রতিনিয়ত নানা অঘটনের শিকার হচ্ছেন। এই অবস্থায় আইন–শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে। চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবদুল জব্বার বলেন, কলেজ শিক্ষার্থীকে গণধর্ষণের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানোর পর ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে পুলিশ মাঠে রয়েছে। এই জঘন্যতম ঘটনার আশ্রয়দাতা যে, তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে শিক্ষার্থীর বাবাকে বলা হয়েছে থানায় এজাহার দিতে। পাশাপাশি পুরো পরিবারের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×