হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

তিস্তা এখন মরা খাল সেচ সংকটে দিশাহারা উত্তরের কৃষক, কর্তৃপক্ষের তথ্যে বিভ্রান্তি

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন


ভারত, ৩ মার্চ – উজানে ভারত থেকে একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ‘জীবনরেখা’ খ্যাত তিস্তা নদী শুষ্ক মৌসুমে কার্যত মরা খালে রূপ নিয়েছে।

নদীতে পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো সেচের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যার ফলে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার লাখো কৃষক তাদের প্রাপ্য সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন

৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

পাউবো সূত্রে জানা গেছে বর্ষা মৌসুমে তিস্তায় গড়ে প্রায় দুই লাখ কিউসেক পানি প্রবাহ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা নেমে আসে গড়ে মাত্র দুই হাজার কিউসেকে এবং কখনো কখনো এই প্রবাহ ৫০০ কিউসেকেও নেমে যায়। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হলেও মূল নদীতে পানি না থাকায় অধিকাংশ সেচনালা কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।

তিস্তা ব্যারাজ থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পের ৭৬৬ কিলোমিটার খাল তিনটি জেলার ১২টি উপজেলায় বিস্তৃত এবং ২০২১ সালে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাউবো দাবি করেছে যে প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। ক্যানেল নির্মাণ শেষ হলেও অনেক স্থানে তিস্তার পানি পৌঁছায়নি ফলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কৃষক বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিকল্প সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

নীলফামারীর কৃষকরা জানান ক্যানেল পাশেই থাকা সত্ত্বেও পানি না থাকায় তাদের বৈদ্যুতিক ও ডিজেলচালিত মেশিন ব্যবহার করতে হচ্ছে যাতে উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা বেড়ে গেছে। কৃষক জাকারিয়া সরকার ও নুরুজ্জামান ইসলামের মতে ভাঙা ক্যানেল ঠিক করা হলেও পানি সরবরাহ নেই এবং কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির পরেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে মাঠের এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কর্মকর্তার তথ্যে বড় ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।

নথিপত্র অনুযায়ী ১৯৯০ সালে সেচের লক্ষ্যমাত্রা ৮৪ হাজার ৩৭৮ হেক্টর থাকলেও তিন দশকে তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি এবং চলতি মৌসুমে ৫৭ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পানিপ্রবাহে এর অর্ধেক অর্জন করাও কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এম ম/ ৩ মার্চ ২০২৬


coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

তিস্তা এখন মরা খাল সেচ সংকটে দিশাহারা উত্তরের কৃষক, কর্তৃপক্ষের তথ্যে বিভ্রান্তি

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

তিস্তা এখন মরা খাল সেচ সংকটে দিশাহারা উত্তরের কৃষক, কর্তৃপক্ষের তথ্যে বিভ্রান্তি

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন
Print Image
[ad_1] ভারত, ৩ মার্চ – উজানে ভারত থেকে একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ‘জীবনরেখা’ খ্যাত তিস্তা নদী শুষ্ক মৌসুমে কার্যত মরা খালে রূপ নিয়েছে।নদীতে পানির প্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় দেশের বৃহত্তম তিস্তা ব্যারাজ সেচ প্রকল্প বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। পর্যাপ্ত পানির অভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বা পাউবো সেচের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে, যার ফলে নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার লাখো কৃষক তাদের প্রাপ্য সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।পাউবো সূত্রে জানা গেছে বর্ষা মৌসুমে তিস্তায় গড়ে প্রায় দুই লাখ কিউসেক পানি প্রবাহ থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে তা নেমে আসে গড়ে মাত্র দুই হাজার কিউসেকে এবং কখনো কখনো এই প্রবাহ ৫০০ কিউসেকেও নেমে যায়। প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সংস্কার ও সম্প্রসারণ করা হলেও মূল নদীতে পানি না থাকায় অধিকাংশ সেচনালা কার্যত অচল হয়ে পড়ে আছে।তিস্তা ব্যারাজ থেকে শুরু হয়ে প্রকল্পের ৭৬৬ কিলোমিটার খাল তিনটি জেলার ১২টি উপজেলায় বিস্তৃত এবং ২০২১ সালে শুরু হওয়া একটি প্রকল্পের আওতায় এক হাজার ৪৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পাউবো দাবি করেছে যে প্রকল্পের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। ক্যানেল নির্মাণ শেষ হলেও অনেক স্থানে তিস্তার পানি পৌঁছায়নি ফলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কৃষক বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বিকল্প সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।নীলফামারীর কৃষকরা জানান ক্যানেল পাশেই থাকা সত্ত্বেও পানি না থাকায় তাদের বৈদ্যুতিক ও ডিজেলচালিত মেশিন ব্যবহার করতে হচ্ছে যাতে উৎপাদন খরচ বিঘাপ্রতি ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা বেড়ে গেছে। কৃষক জাকারিয়া সরকার ও নুরুজ্জামান ইসলামের মতে ভাঙা ক্যানেল ঠিক করা হলেও পানি সরবরাহ নেই এবং কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির পরেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে মাঠের এই সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যেই খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কর্মকর্তার তথ্যে বড় ধরনের বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।নথিপত্র অনুযায়ী ১৯৯০ সালে সেচের লক্ষ্যমাত্রা ৮৪ হাজার ৩৭৮ হেক্টর থাকলেও তিন দশকে তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি এবং চলতি মৌসুমে ৫৭ হাজার হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পানিপ্রবাহে এর অর্ধেক অর্জন করাও কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।এম ম/ ৩ মার্চ ২০২৬ [ad_2]

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×