হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

দিল্লির নতুন সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্র

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ৩ জুন ২০২৩, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন


নয়াদিল্লী, ০৩ জুন – ভারতের নতুন সংসদ ভবনে ম্যুরালের মাধ্যমে ‘অখণ্ড ভারতের’ এক মানচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেই অখণ্ড ভারতের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার। নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কুমার দহলের (প্রচণ্ড) ভারত সফরের সময় এ ম্যুরাল নেপালের রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। ভবিষ্যতে এ বিতর্ক ভারতের অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোতেও বড় হয়ে দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ম্যুরালে নেপালের লুম্বিনীকে অখণ্ড ভারতের অঙ্গ হিসেবে দেখানো হয়েছে। গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী নেপালিদের কাছে এক পবিত্র স্থান ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটা তাদের এক অনন্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। দেশের পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম প্রধান আকর্ষণও।

ভারতের নতুন সংসদ ভবন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ মে হিন্দুত্ববাদের প্রবক্তা বিনায়ক দামোদর সাভারকরের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সংসদ ভবন উদ্বোধন করেন। সংসদের অভিভাবক রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তাঁকে দিয়ে কেন তা উদ্বোধন করানো হলো না, সেই বিতর্কে দেশের বিরোধীরা সরব হন। প্রতিবাদ হিসেবে ২৪টি রাজনৈতিক দল ওই অনুষ্ঠান বর্জন করে। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুধর্ম অনুযায়ী পূজা ও হোমযজ্ঞ করে নতুন ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। বিতর্ক বাধে তা নিয়েও। এবার নতুন বিতর্ক ‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্র নিয়ে।

আরও পড়ুন

টোকিওর মতবিনিময় সভায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার রোডম্যাপ তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডের দিল্লি সফরের মধ্যেই নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাবুরাম ভট্টরাই এক বিবৃতিতে এ বিতর্কের অবতারণা করেন। তিনি বলেন, ‘এই মানচিত্র নেপালসহ ভারতের অন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রে অহেতুক ও ক্ষতিকর বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেশীর সঙ্গে ভারতের যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে, তা বাড়িয়ে দেওয়ার মতো উপাদান এ মানচিত্রে রয়েছে। বিষিয়ে তুলতে পারে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।’

নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর শুরুর আগেই সে দেশের গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

ভারত ও নেপালের মধ্যে কালাপানিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। ২০১৯ সালে ভারতের একটি রাজনৈতিক মানচিত্রে কালাপানিকে উত্তরাখন্ড রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছিল। পাল্টা মানচিত্র বের করেছিল নেপাল। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ অনেক দিনের। গত বৃহস্পতিবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদিও বলেছেন, বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যাবতীয় বিরোধ তাঁরা মীমাংসা করবেন।

গত বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়াত্রা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে তাঁকে মানচিত্র বিতর্কের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। পররাষ্ট্রসচিব অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি এক টুইটে নতুন সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারতের’ ম্যুরালের ছবি দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘সংকল্প স্পষ্ট, অখণ্ড ভারত।’

বিজেপি যে ভারতকে ক্রমেই হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে, সে অভিযোগ বিরোধীরা অনেক দিন ধরেই করে আসছে। হিন্দু রীতিতে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন, হিন্দু পূজারি ও পুরোহিতদের সমাবেশ এবং অখণ্ড ভারতের মানচিত্র সরকারের সেই উদ্দেশ্য স্পষ্টতর করে দিচ্ছে বলে বিরোধীদের অভিমত।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ মনে করে, প্রাচীনকালের গান্ধার (কান্দাহার) থেকে ব্রক্ষ্মদেশ (মিয়ানমার) ও তিব্বত-নেপাল থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ভারতের সভ্যতা ও সংস্কৃতি। এই অখণ্ড ভূমিই তাদের কাছে ‘অখণ্ড ভারত’। সংঘ এখনো মনে করে, অতীতে যা ছিল ‘সিন্ধু’ সভ্যতা, তা আদতে ‘হিন্দু’ সভ্যতা। সেই সভ্যতার বিকাশ তারা নতুনভাবে ঘটাতে চায়।

এন এ/ ০৩ জুন




coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

দিল্লির নতুন সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্র

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

দিল্লির নতুন সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্র

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ৩ জুন ২০২৩, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
Print Image
[ad_1] নয়াদিল্লী, ০৩ জুন – ভারতের নতুন সংসদ ভবনে ম্যুরালের মাধ্যমে ‘অখণ্ড ভারতের’ এক মানচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সেই অখণ্ড ভারতের মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমার। নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কুমার দহলের (প্রচণ্ড) ভারত সফরের সময় এ ম্যুরাল নেপালের রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। ভবিষ্যতে এ বিতর্ক ভারতের অন্য প্রতিবেশী দেশগুলোতেও বড় হয়ে দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ম্যুরালে নেপালের লুম্বিনীকে অখণ্ড ভারতের অঙ্গ হিসেবে দেখানো হয়েছে। গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী নেপালিদের কাছে এক পবিত্র স্থান ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটা তাদের এক অনন্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। দেশের পর্যটন মানচিত্রে অন্যতম প্রধান আকর্ষণও। ভারতের নতুন সংসদ ভবন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ মে হিন্দুত্ববাদের প্রবক্তা বিনায়ক দামোদর সাভারকরের জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সংসদ ভবন উদ্বোধন করেন। সংসদের অভিভাবক রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তাঁকে দিয়ে কেন তা উদ্বোধন করানো হলো না, সেই বিতর্কে দেশের বিরোধীরা সরব হন। প্রতিবাদ হিসেবে ২৪টি রাজনৈতিক দল ওই অনুষ্ঠান বর্জন করে। ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুধর্ম অনুযায়ী পূজা ও হোমযজ্ঞ করে নতুন ভবনটি উদ্বোধন করা হয়। বিতর্ক বাধে তা নিয়েও। এবার নতুন বিতর্ক ‘অখণ্ড ভারতের’ মানচিত্র নিয়ে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ডের দিল্লি সফরের মধ্যেই নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাবুরাম ভট্টরাই এক বিবৃতিতে এ বিতর্কের অবতারণা করেন। তিনি বলেন, ‘এই মানচিত্র নেপালসহ ভারতের অন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রে অহেতুক ও ক্ষতিকর বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেশীর সঙ্গে ভারতের যে বিশ্বাসের ঘাটতি রয়েছে, তা বাড়িয়ে দেওয়ার মতো উপাদান এ মানচিত্রে রয়েছে। বিষিয়ে তুলতে পারে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক।’ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর শুরুর আগেই সে দেশের গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভারত ও নেপালের মধ্যে কালাপানিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। ২০১৯ সালে ভারতের একটি রাজনৈতিক মানচিত্রে কালাপানিকে উত্তরাখন্ড রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়েছিল। পাল্টা মানচিত্র বের করেছিল নেপাল। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ অনেক দিনের। গত বৃহস্পতিবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যদিও বলেছেন, বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যাবতীয় বিরোধ তাঁরা মীমাংসা করবেন। গত বৃহস্পতিবার দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিনয় কোয়াত্রা সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে তাঁকে মানচিত্র বিতর্কের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। পররাষ্ট্রসচিব অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সংসদীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশি এক টুইটে নতুন সংসদ ভবনে ‘অখণ্ড ভারতের’ ম্যুরালের ছবি দিয়ে মন্তব্য করেছেন, ‘সংকল্প স্পষ্ট, অখণ্ড ভারত।’ বিজেপি যে ভারতকে ক্রমেই হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করতে চাইছে, সে অভিযোগ বিরোধীরা অনেক দিন ধরেই করে আসছে। হিন্দু রীতিতে নতুন সংসদ ভবনের উদ্বোধন, হিন্দু পূজারি ও পুরোহিতদের সমাবেশ এবং অখণ্ড ভারতের মানচিত্র সরকারের সেই উদ্দেশ্য স্পষ্টতর করে দিচ্ছে বলে বিরোধীদের অভিমত। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ মনে করে, প্রাচীনকালের গান্ধার (কান্দাহার) থেকে ব্রক্ষ্মদেশ (মিয়ানমার) ও তিব্বত-নেপাল থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ভারতের সভ্যতা ও সংস্কৃতি। এই অখণ্ড ভূমিই তাদের কাছে ‘অখণ্ড ভারত’। সংঘ এখনো মনে করে, অতীতে যা ছিল ‘সিন্ধু’ সভ্যতা, তা আদতে ‘হিন্দু’ সভ্যতা। সেই সভ্যতার বিকাশ তারা নতুনভাবে ঘটাতে চায়। এন এ/ ০৩ জুন [ad_2]

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×