কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি অভিযানে সশস্ত্র ডাকাত দল ‘রফিক বাহিনীর’ এক সক্রিয় সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি একনলা দেশীয় বন্দুক, দুটি ওয়ান শুটার এলজি, ১৭ রাউন্ড গুলি, ২৭টি ফাঁকা কার্তুজ ও দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি মুঠোফোন ও একটি নোহা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কের হ্নীলা ইউনিয়নের পূর্ব লেদা এলাকায় পুলিশের অস্থায়ী চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১টার দিকে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রফিক বাহিনীর সক্রিয় সদস্য শেখ বিজয়কে (২৩) গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হ্নীলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব লেদা এলাকায় অস্থায়ী তল্লাশিচৌকি বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় টেকনাফগামী একটি নোহা গাড়িকে থামার সংকেত দিলে চালক ও সামনের আসনে থাকা এক ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যান। পরে গাড়ির পেছনের দরজা খুলে পালানোর চেষ্টা করলে চারজনকে আটক করে পুলিশ।
সীমান্তে পাচার,অপহরণ ও মাদক রোধে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে-শাহহাজান চৌধুরী
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হ্নীলা ইউনিয়নের নাইক্ষ্যংখালী এলাকার বেলাল উদ্দিন (৪৮), হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কম্বনিয়াপাড়ার মাহাবুবুর রহমান মাহবুব (৩১), খারাংখালী পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়ার মো. রিশাদ (২৪) এবং হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার আব্দুল্লাহ (২৫)। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও একটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাঁদের ব্যবহৃত নোহা গাড়িটি জব্দ করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অপহরণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে কক্সবাজার আদালতে পাঠানো হয়েছে। বুধবার বিকেল ওসি মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বুধবার রাত পৌনে একটার দিকে হোয়াইক্যং ক্যাম্পের একটি দল টেকনাফ মডেল থানার নয়াবাজার এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়া এলাকায় কয়েকজন মাদক কারবারির অবস্থানের খবর পায়। পরে ওই এলাকার বাসিন্দা মো. শাহজাহানের বাড়ির উত্তর পাশের খালপাড়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁদের মধ্যে শেখ বিজয়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাহিনীটির দাবি, গ্রেপ্তার শেখ বিজয় টেকনাফের খারাংখালী এলাকার পূর্ব মহেশখালীয়াপাড়ার বাসিন্দা শাহ আলমের ছেলে। তিনি সশস্ত্র ডাকাত দল ‘রফিক বাহিনীর’ সক্রিয় সদস্য। তাঁর হেফাজত থেকে একটি একনলা দেশীয় বন্দুক, দুটি ওয়ান শুটার এলজি, ১৭ রাউন্ড গুলি, ২৭টি ফাঁকা কার্তুজ, ছয়টি ধারালো ছোরা ও একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৫-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার আ. ম. ফারুক বলেন, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধার করা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য আলামতসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: টেকনাফে পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার: রফিক বাহিনীর সদস্যসহ আটক ৫ সম্পর্কিত তথ্য কী?
উত্তর: কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক দুটি অভিযানে সশস্ত্র ডাকাত দল ‘রফিক বাহিনীর’ এক সক্রিয় সদস্যসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিন। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।




মন্তব্য করুন