আবুজা, ২৫ ডিসেম্বর – নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শহর মাইদুগুরিতে একটি মসজিদের ভেতরে বোমা বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন মুসল্লি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে।
এই হামলার দায় এখনো কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে জিহাদবিরোধী মিলিশিয়া নেতা বাবাকুরা কোলোর মতে, এটি একটি সন্দেহজনক বোমা হামলা।
৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা
মাইদুগুরি নাইজেরিয়ার বর্নো রাজ্যের রাজধানী। এই রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে জিহাদি সংগঠন বোকো হারাম এবং তাদের সহযোগী ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সের (আইএসডব্লিউএপি) বিদ্রোহের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। যদিও শহরটিতে গত কয়েক বছরে বড় ধরনের কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শহরের গামবোরু বাজার এলাকার একটি মসজিদের ভেতরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নাগাদ মুসল্লিরা যখন মাগরিবের নামাজের জন্য জড়ো হয়েছিলেন, তখন মসজিদের ভেতর বোমাটি বিস্ফোরিত হয়।
মসজিদের অন্যতম নেতা মালাম আবুনা ইউসুফ নিহতের সংখ্যা আটজন বলে জানিয়েছেন। তবে সরকারি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
আহতদের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে প্রত্যক্ষদর্শী ইসা মুসা ইউশাউ এএফপিকে বলেন, আমি অনেক আহত মানুষকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে দেখেছি।
ঘটনার পরপরই ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রক্তাক্ত অবস্থায় একজন ব্যক্তি মাটিতে কাতরাচ্ছেন এবং কয়েকটি মরদেহ চাদর দিয়ে ঢাকা রয়েছে।
এদিকে, মাইদুগুরিতে কর্মরত একটি আন্তর্জাতিক এনজিও তাদের কর্মীদের কাছে পাঠানো নিরাপত্তা সতর্কবার্তায় গামবোরু বাজার এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। এএফপি ওই সতর্কবার্তাটি দেখেছে।
প্রাণঘাতী বিদ্রোহ
যদিও এক দশক আগের তুলনায় সহিংসতা কিছুটা কমেছে, তবু এই বিদ্রোহ পাশের দেশ নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়া, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় সহিংসতা নতুন করে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের পরও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো এখনো প্রাণঘাতী হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে।
মাইদুগুরি শহরটি একসময় নিয়মিত গোলাগুলি ও বোমা হামলার সাক্ষী ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে শান্ত রয়েছে। শহরটিতে সর্বশেষ বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে ২০২১ সালে।
তবুও রাজ্যের রাজধানীতে সংঘাতের চিহ্ন এখনো স্পষ্ট। এখানেই বড় বড় সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর অবস্থিত। প্রতিদিন সামরিক পিকআপ গাড়ি শহরের রাস্তায় চলাচল করে, যেগুলোর পেছনে সশস্ত্র সেনারা অবস্থান নেন এবং তাদের হেলমেট প্রখর দুপুরের রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়।
সন্ধ্যার পরও শহরে নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট কার্যকর থাকে। যদিও একসময় দুপুরের পর বন্ধ হয়ে যেত এমন বাজারগুলো এখন রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকে।
অন্যদিকে, গ্রামীণ এলাকায় বিদ্রোহ এখনো অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, চলতি বছরে জিহাদি সহিংসতা আবারও বাড়তে পারে।
সূত্র: জাগো নিউজ
এনএন/ ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন