হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

নিজের প্রিয় নায়কের লাশ কাটতে হবে, বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ডোম রমেশ

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন


ঢাকা, ২৫ অক্টোবর – বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর এবার তা হত্যা মামলার রূপ নিয়েছে। এ মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে রমনা থানা পুলিশ।

সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর কেটে গেছে। এতদিন পরও রমেশের চোখ বন্ধ করলে ভেসে ওঠে—ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিস্তব্ধ ঘরে শুয়ে থাকা নায়ক সালমান শাহর মরদেহ। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছে না, তাদের প্রিয় নায়ক আর নেই।

আরও পড়ুন

কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির দাবিও

হাসপাতাল মর্গের সেই সময়ের তরুণ ডোম রমেশও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না—তারও প্রিয় নায়ক সালমান শাহ মারা গেছেন। প্রিয় নায়কের লাশটা আবার তাকেই কাটতে হবে ময়নাতদন্তের জন্য।

২৯ বছর আগে চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করতে গত সোমবার (২০ অক্টোবর) আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটি তদন্তের জন্য রমনা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক।

২৯ বছর আগে সালমান শাহের মৃত্যুর পর লাশ আনা হয় ঢামেকের মর্গে। ময়নাতদন্তের সময় ডোম ছিলেন ঢামেক হাসপাতালের সরকারি কর্মচারী রমেশ। পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, নাম হয় সেকেন্দার।

তিনি আরও বলেন, তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ এত আধুনিক ছিল না। পুরাতন মর্গে লাশটি নেওয়া হলো। চিকিৎসকের নির্দেশে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করি আমি। আমার প্রিয় নায়কের বুকে আমি নিজেই ছুরি চালাই। ফরেনসিক চিকিৎসকে নির্দেশে ময়নাতদন্তের সময় সবকিছুই করতে হয়।

অবসরে যাওয়া এই ডোম বলেন, ৩৫ বছর চাকরি শেষে বর্তমানে অবসর জীবন কাটাচ্ছি। হাজার হাজার লাশ কেটেছি। কিন্তু সালমানের লাশে হাত দেওয়ার স্মৃতি ভোলার নয়।

লাশকাটা ঘরে ডোমদের প্রধান কাজ হলো ফরেনসিক ডাক্তারদের সহকারী হিসেবে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ প্রস্তুত করা এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেলাই করা। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে মরদেহ পরিষ্কার করা, কাটা-ছেঁড়া করা এবং পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বের করা। এছাড়া তারা লাশ কাটা-ছেঁড়ার পর সেলাই করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার ভাড়া বাসায় পাওয়া যায় অভিনেতা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহের লাশ। বাংলা সিনেমায় তার জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি তখন আকাশচুম্বী।

এর মাঝে কয়েক দফা তদন্তে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে তা বরাবরই নাকচ করেছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী।

এ অবস্থায় ২০১৬ সালের শেষ দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নতুন করে এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে পিবিআইও জানায়, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম।

সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর সেই আবেদন খারিজ করে দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ। এরপর সেই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা করেন নীলা চৌধুরী।

গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক ওই আবেদন মঞ্জুর করেন এবং সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হত্যা মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশের পর সেদিন রাতে সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।  অপর আসামিরা হলেন- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

এনএন/ ২৫ অক্টোবর ২০২৫


coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

নিজের প্রিয় নায়কের লাশ কাটতে হবে, বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ডোম রমেশ

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

নিজের প্রিয় নায়কের লাশ কাটতে হবে, বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ডোম রমেশ

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
Print Image
[ad_1] ঢাকা, ২৫ অক্টোবর – বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পর এবার তা হত্যা মামলার রূপ নিয়েছে। এ মামলায় তার সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে রমনা থানা পুলিশ।সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর কেটে গেছে। এতদিন পরও রমেশের চোখ বন্ধ করলে ভেসে ওঠে—ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিস্তব্ধ ঘরে শুয়ে থাকা নায়ক সালমান শাহর মরদেহ। কেউ বিশ্বাসই করতে পারছে না, তাদের প্রিয় নায়ক আর নেই।হাসপাতাল মর্গের সেই সময়ের তরুণ ডোম রমেশও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না—তারও প্রিয় নায়ক সালমান শাহ মারা গেছেন। প্রিয় নায়কের লাশটা আবার তাকেই কাটতে হবে ময়নাতদন্তের জন্য।২৯ বছর আগে চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করতে গত সোমবার (২০ অক্টোবর) আদেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটি তদন্তের জন্য রমনা থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক।২৯ বছর আগে সালমান শাহের মৃত্যুর পর লাশ আনা হয় ঢামেকের মর্গে। ময়নাতদন্তের সময় ডোম ছিলেন ঢামেক হাসপাতালের সরকারি কর্মচারী রমেশ। পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, নাম হয় সেকেন্দার।তিনি আরও বলেন, তখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গ এত আধুনিক ছিল না। পুরাতন মর্গে লাশটি নেওয়া হলো। চিকিৎসকের নির্দেশে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করি আমি। আমার প্রিয় নায়কের বুকে আমি নিজেই ছুরি চালাই। ফরেনসিক চিকিৎসকে নির্দেশে ময়নাতদন্তের সময় সবকিছুই করতে হয়।অবসরে যাওয়া এই ডোম বলেন, ৩৫ বছর চাকরি শেষে বর্তমানে অবসর জীবন কাটাচ্ছি। হাজার হাজার লাশ কেটেছি। কিন্তু সালমানের লাশে হাত দেওয়ার স্মৃতি ভোলার নয়।লাশকাটা ঘরে ডোমদের প্রধান কাজ হলো ফরেনসিক ডাক্তারদের সহকারী হিসেবে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ প্রস্তুত করা এবং তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সেলাই করা। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে মরদেহ পরিষ্কার করা, কাটা-ছেঁড়া করা এবং পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বের করা। এছাড়া তারা লাশ কাটা-ছেঁড়ার পর সেলাই করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন।১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রাজধানীর নিউ ইস্কাটন গার্ডেন এলাকার ভাড়া বাসায় পাওয়া যায় অভিনেতা চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহের লাশ। বাংলা সিনেমায় তার জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি তখন আকাশচুম্বী।এর মাঝে কয়েক দফা তদন্তে সালমানের মৃত্যুকে আত্মহত্যা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে তা বরাবরই নাকচ করেছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী।এ অবস্থায় ২০১৬ সালের শেষ দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নতুন করে এ মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়। ২০২০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে পিবিআইও জানায়, সালমান আত্মহত্যা করেছেন। ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম।সেই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ। ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর সেই আবেদন খারিজ করে দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ। এরপর সেই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা করেন নীলা চৌধুরী।গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক ওই আবেদন মঞ্জুর করেন এবং সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হত্যা মামলা গ্রহণ ও তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।আদালতের আদেশের পর সেদিন রাতে সালমান শাহের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়।  অপর আসামিরা হলেন- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।এনএন/ ২৫ অক্টোবর ২০২৫ [ad_2]

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×