ঢাকা, ২৫ অক্টোবর – নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলো সংঘাতের জন্য মুখিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। প্রধান উপদেষ্টার অবস্থানের কারণে এখন পর্যন্ত তারা সংঘাতে জড়াচ্ছে না বলেও তিনি মনে করেন।
শনিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনে ‘মাজার সংস্কৃতি: সহিংসতা, সংকট ও ভবিষ্যৎ ভাবনা’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এ কথা বলেন মাহফুজ আলম। সংলাপের আয়োজন করে সুফি সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করা প্ল্যাটফর্ম ‘মাকাম’। সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
ইসরায়েল নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে, জয়ের পেছনে নিজের সমর্থনকে কৃতিত্ব দিলেন ট্রাম্প
মাহফুজ আলম বলেন, ‘সবাই সংঘাতের জন্য মুখিয়ে আছে এবং আপনারা অবশ্যই এটা অল্প কয়েক মাসের মধ্যে দেখতে পাবেন এবং আমি আশঙ্কা করছি, যদি এটার সঙ্গে ধর্মীয় যে দৃষ্টিকোণ, এটা যদি যুক্ত হয়, তাহলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ করা নিয়ে বিগত রাজনৈতিক নেতারা কিছু ভাবেননি। সবাই ব্যবহার করেছেন কেউ সুন্নিদের, কেউ কওমিদের। অনেকেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় ইসলামকে নিয়ে আসতে চায়। অথচ তারা এ অঞ্চলের ইসলামের ইতিহাস পড়েননি।
তিনি জানান, নিজেকে রক্ষা করার জন্যই সুফিবাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংযোগ ছিল। এখানেই ধর্মীয় রাজনীতি আটকে গেছে। কওমি রাজনীতিতে একই ঘটনা ঘটেছে।
মাহফুজ আলম বলেন, গত ১৫ বছরে একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আদর্শিক বিরোধিতার জায়গা থেকে সুফি ঘরানাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি সংযোগ ঘটেছিল। আওয়ামী লীগ তাদের সুরক্ষা দেবে এবং তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দেবে। এই পরিমণ্ডলেই ধর্মীয় রাজনীতিটা আটকে গেছে। কওমিরাও এর বাইরে নয় বলেও মনে করেন তিনি। তারাও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয়েছে।
দেশে বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোর সংযোগ রয়েছে উল্লেখ করে মাহফুজ আলম বলেন, ‘কোনো কোনো অ্যাম্বাসি চায় যে মাজারগুলো ধ্বংস হোক। একধরনের রাজনৈতিক আদর্শিক জায়গাগুলো এখানে আছে।’ তিনি বলেন, ধর্মীয় জনগোষ্ঠী লড়াই করবে, মব করবে—এমন ভয় না পেয়ে, এই সংকটগুলো রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে, রাজনৈতিক জায়গা থেকে, নীতির জায়গা থেকে দেখতে হবে। না হলে সংকট ঘনীভূত হতে থাকবে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একটি ক্ষোভের জায়গা আছে যে এক বছরে কিছুই করা হয়নি। এই ক্ষোভ থেকে পাল্টা আঘাতের চিন্তা করলে ভালো কিছু হবে না। তিনি বলেন, মাজারে হামলার পর অনেক লোককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন সমীক্ষা করে মাজারগুলোকে সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এনএন/ ২৫ অক্টোবর ২০২৫




মন্তব্য করুন