পটুয়াখালী, ৩১ জানুয়ারি – আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন পূর্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন ও নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল হক নুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এই নোটিশ জারি করেছে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সংসদীয় আসন-১১৩, পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) এর অস্থায়ী কার্যালয়—সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, দশমিনা, পটুয়াখালী থেকে নোটিশটি জারি করা হয়। নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য (সিভিল জজ, বরিশাল) সাব্বির মো. খালিদ।
বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার অবস্থান ৩ নম্বরে: বাতাসে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি
নোটিশে বলা হয়, অ্যাডভোকেট এনামুল হক কর্তৃক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন সম্পর্কে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের অভিযোগ আছে। এতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা-২০২৫-এর ১৫(ক) এবং ১৬(গ), (ছ) বিধি লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, গত ২৬ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান এলাকার পাগলা বাজার সেন্টারে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুনের নির্বাচনী অফিসে নুরের অনুসারী কর্মী ও সমর্থকেরা ভাঙচুর চালায় এবং তার কর্মী-সমর্থকদের আহত করে। এ ঘটনাটি আচরণবিধিমালা-৬(ক) বিধির পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিশে নুরুল হক নুরকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে সশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে, কেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং নির্বাচন কমিশন বরাবর প্রতিবেদন পাঠানো হবে না।
নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ হাসান মামুনের সমর্থক। গত ১৭ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা এবং গলাচিপা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মূলত নুরুল হক নুরের পক্ষে কাজ না করায় এসব কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে আসনটিতে নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন ‘ঘোড়া’ প্রতীকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে প্রচারণার শুরু থেকেই দুই প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। এর আগে ২৭ জানুয়ারি রাতে নিজেদের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় দুজনও একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
এনএন/ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন