পটুয়াখালী, ২৫ মার্চ – পটুয়াখালীর বাউফলে লোহালিয়া নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনার পর দুর্ঘটনা কবলিত যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি আওলাদ সাত এর রুট পারমিট ও সময়সূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআইডব্লিউটিএ।
বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার দিকে বামনিকাঠী লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে নিখোঁজ থাকা দুই শ্রমিকের মরদেহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। নিহতরা হলেন রাঙাবালী উপজেলার চরলাটসাহেব এলাকার ওয়াজেদ হাওলাদারের ছেলে রেজাউল করীম এবং চরবিষ্টন এলাকার আব্দুল ফকিরের ছেলে নাছির ফকির। তারা দুজনই তরমুজ পরিবহনের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি চেয়েছে বাংলাদেশ
দুর্ঘটনায় আরও অন্তত দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্র ও বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের তথ্যমতে, রাঙ্গাবালী থেকে চারজন তরমুজ চাষি একটি ট্রলার ভাড়া করে প্রায় চারশো তরমুজ নিয়ে বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। ট্রলারে দুজন মালিকসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন।
ঢাকা থেকে পটুয়াখালীগামী ডাবল ডেকার লঞ্চ এমভি আওলাদ সাত ভোররাতে ট্রলারটিকে সজোরে ধাক্কা দিলে সেটি মুহূর্তের মধ্যে নদীতে তলিয়ে যায়। ট্রলারের কেবিনে থাকা তিনজন আরোহীর মধ্যে একজন বের হতে পারলেও রেজাউল ও নাছির ভেতরে আটকা পড়ে প্রাণ হারান। বাকিরা সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। স্থানীয়দের ধারণা, ভোররাতের ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় লঞ্চ চালক ট্রলারটিকে দেখতে না পাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
বাউফল থানার পুলিশ পরিদর্শক আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করেছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ এম/ ২৫ মার্চ ২০২৬



মন্তব্য করুন