সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে অসংখ্য পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়ে। অনেকের ঘরে রান্নার চুলা পর্যন্ত ডুবে যায়, দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকট।
এমন কঠিন সময়ে রাজনৈতিক সংগঠন, মানবিক ও সেবামূলক সংগঠন, প্রবাসী, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীরা মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। নৌকাযোগে দুর্গম এলাকায় গিয়ে তারা বন্যাকবলিত মানুষের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন রান্না করা খাবার, খিচুড়ি, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী। পাশাপাশি দুর্গত পরিবারের খোঁজখবর নিয়ে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিচ্ছেন। এখনও বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল, সাংবাদিক ছফওয়ানুল করিম, মগনামা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজসেবক শাহাদাত কবির, ওমান প্রবাসী আব্দুল হামিদ, দুবাই প্রবাসী নাছির উদ্দিন, পেকুয়া ঋনদান সমিতির সভাপতি তারেক ছিদ্দিকী, ঋনদান সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌরসভার সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম, এরশাদুল আলম, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আবুল কাশেম নূরী, নূর আয়েশা খান ফাউন্ডেশন, সোলতান আহমদ ফাউন্ডেশন, টইটং এলামনাই এসোসিয়েশন, এডভোকেট এনামুল হক, ফাইডো বাংলাদেশ, মগনামার প্যানেল চেয়ারম্যান বদিউল আলম, টইটংয়ের ইউপি সদস্য আবুল কালাম, সদরের নুরুল আজিম, রাজাখালীর ইউপি সদস্য গোলাম রহমান, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াসমিন সোলতানা, শ্রমিকদলের সি.সহসভাপতি ওসমান গনি, সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও তরুণ সমাজসেবক আলমগীর, রাজাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে সেক্রেটারী এডভোকেট হুমায়ুন কবির, এপেক্স ক্লাব অব বাংলাদেশ পেকুয়া শাখা, উপজেলা বিএনপি, উপজেলা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং পেকুয়া থানা প্রশাসনসহ আরও অনেকে । তাদের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
তবে বন্যাদুর্গত মানুষের অভিযোগ, সরকারি ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখনও সরকারি কোনো সহায়তা পায়নি বলে দাবি করেছেন। ত্রাণ বিতরণে সমন্বয়হীনতা ও ধীরগতির কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
এদিকে সদর ইউনিয়নের মেহেরনামা এলাকায় বেড়িবাঁধের দুটি অংশ পানির তীব্র স্রোতে ভেঙে যাওয়ায় লোকালয়ে পানি ঢুকে ব্যাপক প্লাবনের সৃষ্টি হয়। পরে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাহাদুর শাহর দিকনির্দেশনায় ইউপি সদস্য শাহেদুল ইসলাম এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহর তত্ত্বাবধানে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বালুর বস্তা ও বাঁশের বেড়া দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার করা হয়। সোমবার সকালে ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে।
বন্যার ভয়াবহতায় উপজেলার শত শত চিংড়ি ঘের, মাছের প্রজেক্ট ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গিয়ে কোটি কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বহু কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে বা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকেই এখন খোলা আকাশের নিচে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দুর্যোগের এই সময়ে ব্যক্তি, সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্থায়ী পুনর্বাসন, ভাঙা বেড়িবাঁধের টেকসই সংস্কার, কৃষি ও মৎস্য খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।




মন্তব্য করুন