হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে, বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৮

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন

অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে।

পানিবন্দী রয়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাত জেলা হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং আটটি পৌরসভা বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন

উখিয়া থানা পুলিশের অভিযানে ১৫ জন গ্রেপ্তার

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন।

আহত ৪০ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। কক্সবাজারে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সাত জেলায় ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৯৫ জন, বান্দরবানে ৬৭টি কেন্দ্রে ১৫০ জন, মৌলভীবাজারে ছয়টি কেন্দ্রে ২৪৯ জন এবং রাঙামাটির একটি কেন্দ্রে ৫৫ জন রয়েছেন। সরকারি হিসাবে খাগড়াছড়ির কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে কেউ অবস্থান করছেন না।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে:

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৩২ জনের মৃত্যু, ২৫ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৪০ লাখ টাকা, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন বা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ১৫ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। জেলার জন্য ৭৫ লাখ টাকা, এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, এক হাজার ৪০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে সাতজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। রাঙামাটির নয়টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ির ১০টি উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে কোনো প্রাণহানির তথ্য নেই, আহত হয়েছেন একজন। মৌলভীবাজারের সদর ও রাজনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন আক্রান্ত হয়েছে, সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জের সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নও বন্যাকবলিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় মানবিক সহায়তার জন্য ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল, ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে, বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৮

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে, বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৫৮

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
Print Image
অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের কারণে দেশের সাত জেলায় বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১২ লাখ ১৬ হাজার ৮০৫ জনে পৌঁছেছে। পানিবন্দী রয়েছে ৫২ হাজার ৪৯৩টি পরিবার। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকাল ৩টা পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যাকবলিত সাত জেলা হলো খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এসব জেলার ৫৭টি উপজেলা এবং আটটি পৌরসভা বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন জানান, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজারে। জেলাটিতে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৯ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ১৫ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন। আহত ৪০ জনের মধ্যে কক্সবাজারে ২৫ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুজন এবং খাগড়াছড়িতে একজন রয়েছেন। কক্সবাজারে এখনও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য সাত জেলায় ৮৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪৯ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৯৫ জন, বান্দরবানে ৬৭টি কেন্দ্রে ১৫০ জন, মৌলভীবাজারে ছয়টি কেন্দ্রে ২৪৯ জন এবং রাঙামাটির একটি কেন্দ্রে ৫৫ জন রয়েছেন। সরকারি হিসাবে খাগড়াছড়ির কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে কেউ অবস্থান করছেন না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে: প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭১টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৩২ জনের মৃত্যু, ২৫ জন আহত এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৪০ লাখ টাকা, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৪৪৫ মেট্রিক টন চাল ও ৪৫০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলায় আংশিক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন বা এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ১৫ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। জেলার জন্য ৭৫ লাখ টাকা, এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, এক হাজার ৪০ মেট্রিক টন চাল এবং ৪৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে সাতজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। রাঙামাটির নয়টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। খাগড়াছড়ির ১০টি উপজেলার ৪১টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেখানে কোনো প্রাণহানির তথ্য নেই, আহত হয়েছেন একজন। মৌলভীবাজারের সদর ও রাজনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন আক্রান্ত হয়েছে, সেখানে একজনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জের সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নও বন্যাকবলিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলায় মানবিক সহায়তার জন্য ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ৯ হাজার ৫০ মেট্রিক টন চাল, ৪ হাজার ২০০ বান্ডিল টিন এবং গৃহ নির্মাণে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×