বার্লিন, ১ মার্চ – বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সিলর (প্রজেক্ট) হিসেবে কর্মরত তানভীর কবিরের বিরুদ্ধে সরকারি আদেশ অমান্য, স্বেচ্ছাচারিতা, দায়িত্বে অবহেলা এবং আর্থিক বিধিমালা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে তিনি বার্লিন মিশনে কর্মরত আছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তার মেয়াদ পূর্ণ হয় এবং তাকে পাকিস্তানের করাচি মিশনে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাখ্যান ও সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরেও তিনি ১৪ মাসেরও বেশি সময় ধরে বার্লিনেই অবস্থান করছেন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
জানা গেছে, বদলির আদেশ আসার পর তিনি চ্যান্সেরি ভবনের কাজের অজুহাত দেখিয়ে বার্লিনে থেকে যাওয়ার আবেদন করেছিলেন, যা তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে তাকে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের প্রবাসী উইং এবং দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ সহায়তায় তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন।
হামের ভয়াল থাবায় একদিনে ঝরল আরও ৬ প্রাণ
আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতির বার্লিন সফরের সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে হোটেলের অগ্রিম পেমেন্ট ও গাড়ি ভাড়া বাবদ সরকারের প্রায় ৩ লাখ ১০ হাজার ইউরো ক্ষতি হয়। এ সংক্রান্ত একটি মামলায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সময়মতো আপিল না করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়াই আপিল প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছেন এবং পরবর্তীতে চাপের মুখে তা প্রত্যাহার করেন। এছাড়া দূতাবাসের দৈনন্দিন ব্যয়েও তিনি সরকারি নীতিমালার তোয়াক্ষা করছেন না। প্রচলিত নিয়ম ভেঙে তিনি দূতাবাসের ডেবিট কার্ড যথেচ্ছ ব্যবহার করছেন, যার ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যাংক চার্জ বহন করতে হচ্ছে এবং হিসাবরক্ষণ বিভাগকে জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।
তানভীর কবিরের বিরুদ্ধে সহকর্মী ও স্থানীয় কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও প্রবল। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি অনুসরণ করে কর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে স্থানীয় কর্মচারী মো. শরীফ হোসেনকে জোরপূর্বক চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলায় এক জার্মান নারী কর্মীর সঙ্গে অপেশাদার আচরণের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে জানা গেছে। জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এর আগেও জেদ্দা এবং মেক্সিকো মিশনে থাকাকালে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে তাকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আসন্ন অডিটে এ ধরনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা বড় ধরনের আপত্তির কারণ হতে পারে।
এস এম/ ১ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন