হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

‘বিএনপি-আ.লীগ-জাতীয় পার্টি ভাই ভাই’ স্লোগান ঘিরে কক্সবাজারে তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিনিধি, কক্সবাজার :

নিজস্ব প্রতিনিধি, কক্সবাজার :

বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:২৩ অপরাহ্ন

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এক ভিডিও।

ভিডিওতে দেখা যায়, উখিয়ার দক্ষিণ হলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামাল মাহমুদ চৌধুরী হাতে লিফলেট নিয়ে স্থানীয়দের উদ্দেশে বলছেন— “বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি আমরা সবাই ভাই ভাই। শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে ধানের শীষে ভোট চাই।”

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উখিয়া ও আশপাশের এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার পর হঠাৎ করে তাদের ‘ভাই’ আখ্যা দেওয়ার পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? এ ধরনের বক্তব্য কতটা রাজনৈতিকভাবে যৌক্তিক এবং বিএনপির জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।

উখিয়া বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটি পরিকল্পিতভাবে দেওয়া বক্তব্য। এখনো শহীদ ছাত্র-জনতার রক্ত শুকায়নি, মানুষের ক্ষত মুছে যায়নি। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা মানে জাতির সঙ্গে বেইমানি এবং বিএনপিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা।”

আরও পড়ুন

ইনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন গ্যাসের আগুন ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎহীন ৩ হাজার ৮০০ পরিবার

তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, এমন বক্তব্য দলীয় অবস্থানকে বিভ্রান্ত করছে এবং সাধারণ ভোটারের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এতে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির কৌশল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

তবে সরাসরি সমালোচনার মুখে জামাল মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রচারণার অংশ হিসেবে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলতেই ওইভাবে বলেছি। খারাপ কিছু বলিনি। ভিডিওর কিছু অংশ কেটে প্রচার করা হয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উখিয়া-টেকনাফ আসন সবসময়ই স্পর্শকাতর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখানে সামান্য বক্তব্যও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীর প্রচারণায় এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য নির্বাচনী কৌশলকে দুর্বল করার পাশাপাশি দলীয় ভেতরে বিভক্তি ও অনাস্থা আরও তীব্র করতে পারে।

সব মিলিয়ে উখিয়ার এই একটি ভিডিও শুধু আলোচনার জন্ম দেয়নি, বরং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির জন্য অস্বস্তির নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এবং দলের ভেতরে অস্থিরতা— সবকিছু মিলিয়ে শাহজাহান চৌধুরীর নির্বাচনী শিবির এখন স্পষ্টতই চাপের মুখে।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

‘বিএনপি-আ.লীগ-জাতীয় পার্টি ভাই ভাই’ স্লোগান ঘিরে কক্সবাজারে তোলপাড়

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

‘বিএনপি-আ.লীগ-জাতীয় পার্টি ভাই ভাই’ স্লোগান ঘিরে কক্সবাজারে তোলপাড়

প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিনিধি, কক্সবাজার : | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এক ভিডিও। ভিডিওতে দেখা যায়, উখিয়ার দক্ষিণ হলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জামাল মাহমুদ চৌধুরী হাতে লিফলেট নিয়ে স্থানীয়দের উদ্দেশে বলছেন— “বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি আমরা সবাই ভাই ভাই। শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে ধানের শীষে ভোট চাই।” ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর উখিয়া ও আশপাশের এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন— আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করার পর হঠাৎ করে তাদের ‘ভাই’ আখ্যা দেওয়ার পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? এ ধরনের বক্তব্য কতটা রাজনৈতিকভাবে যৌক্তিক এবং বিএনপির জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। উখিয়া বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এটি পরিকল্পিতভাবে দেওয়া বক্তব্য। এখনো শহীদ ছাত্র-জনতার রক্ত শুকায়নি, মানুষের ক্ষত মুছে যায়নি। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা মানে জাতির সঙ্গে বেইমানি এবং বিএনপিকে দুর্বল করার প্রচেষ্টা।” তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, এমন বক্তব্য দলীয় অবস্থানকে বিভ্রান্ত করছে এবং সাধারণ ভোটারের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। এতে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির কৌশল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তবে সরাসরি সমালোচনার মুখে জামাল মাহমুদ চৌধুরী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রচারণার অংশ হিসেবে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে লিফলেট বিতরণ করেছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজভাবে কথা বলতেই ওইভাবে বলেছি। খারাপ কিছু বলিনি। ভিডিওর কিছু অংশ কেটে প্রচার করা হয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উখিয়া-টেকনাফ আসন সবসময়ই স্পর্শকাতর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। এখানে সামান্য বক্তব্যও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীর প্রচারণায় এ ধরনের বিতর্কিত মন্তব্য নির্বাচনী কৌশলকে দুর্বল করার পাশাপাশি দলীয় ভেতরে বিভক্তি ও অনাস্থা আরও তীব্র করতে পারে। সব মিলিয়ে উখিয়ার এই একটি ভিডিও শুধু আলোচনার জন্ম দেয়নি, বরং আসন্ন নির্বাচনে বিএনপির জন্য অস্বস্তির নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভ, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এবং দলের ভেতরে অস্থিরতা— সবকিছু মিলিয়ে শাহজাহান চৌধুরীর নির্বাচনী শিবির এখন স্পষ্টতই চাপের মুখে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×