হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

মিয়ানমারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ইউসিআরের রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়, দাবি সংগঠনটির

শহিদুল ইসলাম ::

শহিদুল ইসলাম ::

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
📌 সংক্ষেপ: মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। সংগঠনটি বলেছে, মিয়ানমা…

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। সংগঠনটি বলেছে, মিয়ানমারের ওই বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘটিত অপরাধের দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।সোমবার (১৭ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউসিআর মিয়ানমারের বক্তব্যের বিভিন্ন দিকের পয়েন্টভিত্তিক জবাব দেয়।

সংগঠনটির দাবি, রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত কারণ ও বাস্তবতা নিয়ে মিয়ানমার সরকার বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। ইউসিআর বলেছে, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়; তারা রাখাইন রাজ্যের ঐতিহাসিক অধিবাসী এবং একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী।

তাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করা রোহিঙ্গাদের ওপর দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নিপীড়নের অন্যতম কারণ বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। ২০১৬ ও ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে মিয়ানমারের বর্ণনারও বিরোধিতা করেছে ইউসিআর।

সংগঠনটির ভাষ্য, এসব অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া ও ব্যাপক নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালের সহিংসতার পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আগে মিয়ানমারের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ইউসিআর। সংগঠনটির দাবি, রোহিঙ্গাদের পরিচয় স্বীকারের ক্ষেত্রে ‘বাঙালি’ হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

এটি তাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকারের শামিল বলে মনে করে ইউসিআর।সংগঠনটি বলেছে, রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) নেতৃত্বে পরিচালনা করা উচিত। মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে যাচাই করা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।

মিয়ানমার জানিয়েছে, বাংলাদেশের দেওয়া তালিকায় থাকা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে। তবে ইউসিআরের মতে, শুধু পরিচয় যাচাই করে প্রত্যাবাসন শুরু করা যথেষ্ট নয়।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইউসিআর বলেছে, তখন রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি হয়নি।সংগঠনটির দাবি, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই।

পুরো প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ থাকতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবেও দেখতে রাজি নয় ইউসিআর।

তাদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। তাই এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারকে ‘অপপ্রচার’ বন্ধ করে রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে ইউসিআর। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর জবাবদিহির চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।ইউসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না।

নিরাপত্তা, পরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত করা হলে তারা নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে প্রস্তুত।

❓ সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন: মিয়ানমারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ইউসিআরের রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়, দাবি সংগঠনটির সম্পর্কিত তথ্য কী?

উত্তর: মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউ। মূল সংবাদ থেকে বিস্তারিত জানুন।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

মিয়ানমারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ইউসিআরের রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়, দাবি সংগঠনটির

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

মিয়ানমারের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান ইউসিআরের রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়, দাবি সংগঠনটির

প্রতিবেদক: শহিদুল ইসলাম :: | প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৬ অপরাহ্ন
Print Image
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (ইউসিআর)। সংগঠনটি বলেছে, মিয়ানমারের ওই বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘটিত অপরাধের দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।সোমবার (১৭ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউসিআর মিয়ানমারের বক্তব্যের বিভিন্ন দিকের পয়েন্টভিত্তিক জবাব দেয়। সংগঠনটির দাবি, রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত কারণ ও বাস্তবতা নিয়ে মিয়ানমার সরকার বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। ইউসিআর বলেছে, রোহিঙ্গারা ‘বাঙালি’ নয়; তারা রাখাইন রাজ্যের ঐতিহাসিক অধিবাসী এবং একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী। তাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকার করা রোহিঙ্গাদের ওপর দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নিপীড়নের অন্যতম কারণ বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। ২০১৬ ও ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানকে ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’ হিসেবে মিয়ানমারের বর্ণনারও বিরোধিতা করেছে ইউসিআর। সংগঠনটির ভাষ্য, এসব অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যা, ধর্ষণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া ও ব্যাপক নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। ২০১৭ সালের সহিংসতার পর সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের আগে মিয়ানমারের যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে ইউসিআর। সংগঠনটির দাবি, রোহিঙ্গাদের পরিচয় স্বীকারের ক্ষেত্রে ‘বাঙালি’ হিসেবে নিবন্ধনের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি তাদের জাতিগত পরিচয় অস্বীকারের শামিল বলে মনে করে ইউসিআর।সংগঠনটি বলেছে, রোহিঙ্গাদের পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) নেতৃত্বে পরিচালনা করা উচিত। মিয়ানমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশ থেকে যাচাই করা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যাবাসন শুরু করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। মিয়ানমার জানিয়েছে, বাংলাদেশের দেওয়া তালিকায় থাকা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে যাচাই করা হয়েছে। তবে ইউসিআরের মতে, শুধু পরিচয় যাচাই করে প্রত্যাবাসন শুরু করা যথেষ্ট নয়। রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, চলাচলের স্বাধীনতা ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালের প্রত্যাবাসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইউসিআর বলেছে, তখন রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতির ওপর রোহিঙ্গাদের আস্থা তৈরি হয়নি।সংগঠনটির দাবি, প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই। পুরো প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ থাকতে হবে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবেও দেখতে রাজি নয় ইউসিআর। তাদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত। তাই এর সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। বিবৃতিতে মিয়ানমার সরকারকে ‘অপপ্রচার’ বন্ধ করে রোহিঙ্গা সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে ইউসিআর। একই সঙ্গে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর জবাবদিহির চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।ইউসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের অস্তিত্ব মুছে ফেলা যাবে না। নিরাপত্তা, পরিচয় ও অধিকার নিশ্চিত করা হলে তারা নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে প্রস্তুত।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×