তেহরান, ১০ মে – মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে এক চাঞ্চল্যকর বৈঠক সম্পন্ন হলো ইরানে। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেছেন সশস্ত্র বাহিনীর একীভূত কমান্ডের প্রধান ও খতম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি। আর এই বৈঠকের পরই তেহরানের সুর এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর ও আক্রমণাত্মক।
রোববার (১০ মে) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই বৈঠকের খবর জানানো হয়। যদিও বৈঠকের সঠিক সময় ও স্থান অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে, তবে এর বিষয়বস্তু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তোলপাড়। আলী আবদুল্লাহি সর্বোচ্চ নেতাকে সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধের প্রস্তুতির সর্বশেষ পরিস্থিতি অবহিত করেন। জবাবে মোজতবা খামেনি শত্রুদের ‘শক্ত হাতে’ মোকাবিলা এবং সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য কিছু বিশেষ এবং নতুন রণকৌশলগত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
অস্ত্র উৎপাদন বন্ধ হবে না, ২৬০টির বেশি শত্রুপক্ষের আকাশযানে হামলার দাবি ইরানের
কেন এই বৈঠক নিয়ে কাঁপছে বিশ্ব রাজনীতি?
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই বৈঠকটিকে দুটি প্রধান কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও রহস্যময় বলে মনে করছে:
- সর্বোচ্চ নেতার রহস্যময় অবস্থান: ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে সেভাবে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার সব আদেশ বা বার্তা আসছিল কেবল লিখিত বিবৃতিতে। এই প্রথম কোনো শীর্ষ সামরিক কমান্ডারের সঙ্গে তার সশরীরে বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে এল, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান কোনো বড় ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি: এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘আমেরিকান ও ইহুদিবাদী (ইসরায়েল) শত্রুদের’ মোকাবিলা। ফারস নিউজের মতে, শত্রুপক্ষের যেকোনো বৈরী কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে ইরান এখন ‘সংঘাতমূলক পরিস্থিতির’ চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।
বৈঠক শেষে কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি এক কড়া বিবৃতিতে বলেন, “আমেরিকান-ইহুদিবাদী শত্রুদের যেকোনো পদক্ষেপ মোকাবিলায় আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। শত্রুপক্ষ সামান্যতম ভুল করলে ইরানের পক্ষ থেকে দ্রুত, কঠোর এবং চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।”
এনএন/ ১০ মে ২০২৬




মন্তব্য করুন