ঢাকা, ১৩ মে – বাজারে এখন সরকারি কার্ডের ছড়াছড়ি—টিসিবি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড থেকে শুরু করে কৃষক কার্ড। কিন্তু এই কার্ড দিয়ে কি সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলাচ্ছে? এমন প্রশ্ন তুলেই এবার সরকারকে সরাসরি ‘লাল কার্ড’ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
বুধবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কৃষকের সংকট নিরসনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই কড়া মন্তব্য করেন।
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার অনেক কার্ড বাজারে ছেড়েছে, কিন্তু সেই সুবিধা প্রান্তিক মানুষের কাছে কতটুকু পৌঁছাচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তিনি ঘোষণা করেন, “আমরাও একটা কার্ড ছাড়তে চাই, সেটা হলো লাল কার্ড। সরকারের সব কার্ড যখন ব্যর্থ হয়ে যাবে, আমরা তখন সেই লাল কার্ড দেখাব।”
তার এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বর্তমান প্রশাসনের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এক চূড়ান্ত আল্টিমেটাম হিসেবে দেখছেন।
সভায় দেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুর পাশাপাশি ভূ-রাজনীতি নিয়েও সরব হন এনসিপির এই নেতা। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার বাংলাদেশের সীমান্তে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাতে চায়। বাংলাদেশের সরকারকে এই উসকানির বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন, “আমরা কোনো দাঙ্গা লাগাতে দেব না।”
- বাজেট বরাদ্দ: প্রতি বছর বাজেট বাড়লেও কৃষির বাজেট কমছে। মোট বাজেটের অন্তত ১০ শতাংশ কৃষি খাতে বরাদ্দ দিতে হবে।
- প্রাইস কমিশন: কৃষিপণ্যের নায্যমূল্য নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ‘প্রাইস কমিশন’ গঠন করা এখন সময়ের দাবি।
এনসিপির এই আলোচনা সভা থেকে উঠে আসা তথ্যগুলো দেশের কৃষি ও সীমান্তের স্থিতিশীলতা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একদিকে লাল কার্ডের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে খাদ্য সংকটের পূর্বাভাস—সরকার এই পরিস্থিতি কীভাবে মোকাবিলা করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
এনএন/ ১৩ মে ২০২৬




মন্তব্য করুন