ঢাকা, ২০ মার্চ – সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন একদল মুসল্লি। পুলিশের অপারেশন কন্ট্রোল শাখার তথ্য অনুযায়ী এসব জামাতে ২৯ হাজারের বেশি মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছেন। রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটনভিত্তিক নির্ধারিত স্থানগুলোতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে এই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সারাদেশে মোট ২০৬টি স্থানে এই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বলে পুলিশের তথ্যে উঠে এসেছে। এসব জামাতে অংশ নেওয়া মুসল্লির সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ হাজার ৮০০ থেকে ২৯ হাজার ৩০০ জনের মতো। দেশের কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ
সবচেয়ে বেশি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জে। সেখানে ৭১টি জামাতে সর্বোচ্চ প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করেছেন।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্যমতে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঢাকা রেঞ্জের ধামরাই, রূপগঞ্জ, সোনারগাঁও, আড়াইহাজার, মুন্সিগঞ্জ সদর, বেলাবো, গাজীপুর, পাকুন্দিয়া, কটিয়াদি, দেলদুয়ার, বোয়ালমারী, মাদারীপুর সদর, কালকিনি, পালং মডেল, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জসহ ২৪টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন প্রায় ৪ হাজার ৭০০ মুসল্লি।
ময়মনসিংহ রেঞ্জের কোতোয়ালি, ভালুকা, ফুলপুরসহ ১৭টি স্থানে প্রায় ২ হাজার ২০০ মুসল্লি, রংপুর রেঞ্জের ২৩টি স্থানে প্রায় ১ হাজার ১০০ জন এবং রাজশাহী রেঞ্জের ১০টি স্থানে প্রায় ৯৮৮ জন মুসল্লি ঈদ জামাতে অংশ নেন।
ঈদকে সামনে রেখে দেশজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি র্যাবও মাঠে কাজ করছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
ঈদের টানা ছুটিতে রাজধানী ফাঁকা হয়ে গেলেও মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় র্যাব ও পুলিশের অন্তত ১৬ হাজার সদস্য তৎপর থাকবেন। রাস্তায় তল্লাশিচৌকি বসানোর পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ঢাকায় এবার ১২১টি ঈদগাহ ও ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদ ঘিরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তায় অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সার্জেন্টরা কাজ করবেন।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা সারা দেশে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। কন্ট্রোল রুম, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, ফুট ও মোবাইল পেট্রোল, ভেহিক্যাল স্ক্যানার, অবজারভেশন পোস্ট এবং সিসিটিভি মনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এছাড়া বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে বিশেষ নজরদারি রয়েছে এবং টিকিট নিয়ে কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সাইবার জগতেও গুজব প্রতিরোধে র্যাবের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
এনএন/ ২০ মার্চ ২০২৬




মন্তব্য করুন