হরমুজ প্রণালি, ২০ মার্চ – হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৮০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সৌদি আরব। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী এপ্রিল মাসের শেষ পর্যন্ত যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন চলতে থাকে, তবে তেলের মূল্যে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে বলে সৌদি কর্মকর্তারা মনে করছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক ওঠানামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার একপর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৯ ডলারে পৌঁছায়। তবে পরবর্তী সময়ে এই দাম কিছুটা কমে আসে।
জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেই এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। রিয়াদভিত্তিক কিং ফয়সাল গবেষণা ও ইসলামিক স্টাডিজ কেন্দ্রের সৌদি পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ উমার কারিম কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে জানান, যুদ্ধের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেলের দাম অনায়াসেই ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি লোহিত সাগরের তেল টার্মিনালগুলোতে কোনো হামলা হয় বা সেখানে পণ্য পরিবহনে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হয়, তবে তেলের দাম ১৫০ ডলারের ওপরে চলে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। উমার কারিম আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে লোহিত সাগরই একমাত্র কার্যকর সংযোগ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব এখনো নিরবচ্ছিন্নভাবে তাদের তেল রপ্তানি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছে।
এর মূল কারণ হলো লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত তাদের ইয়ানবু বন্দরের তেল স্থাপনা। এই বন্দরটি উত্তপ্ত উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে এক হাজার কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত হওয়ায় আপাতত ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে।




মন্তব্য করুন