হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

চ্যালেঞ্জের জনপদ উখিয়ার নতুন ইউএনও পান্না আক্তার

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার :

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার :

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন

উখিয়ার ৪৩ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে ১৬ জুন ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা পান্না আক্তার।

১৯৮৩ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর টানা দ্বিতীয় নারী হিসেবে তিনি এ পদে আসীন হয়েছেন, যা উখিয়ার প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২ জুন ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত সিনিয়র সহকারী কমিশনার পান্না আক্তারকে উখিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়।

পান্না আক্তার এর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সময়ে তিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার,আলমডাঙ্গা উপজেলা ও আলমডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। একযোগে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলভাবে পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও দক্ষ ও পরিণত করেছে।

সীমান্তবর্তী, রোহিঙ্গা সংকটকেন্দ্রিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এবং বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জপূর্ণ উপজেলা উখিয়ায় দায়িত্ব পালনের জন্য এ অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও প্রস্তুত করেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তিনি সরকারি চাকরিজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনে একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে রাজস্ব ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) হিসেবে যোগ দিয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন

পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, কড়া নজরে ১২৫ প্রতিষ্ঠান

পরবর্তীতে তিনি সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে পদোন্নতি লাভ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের এ ধারাবাহিকতায় তাঁর প্রশাসনিক সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্যভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে পান্না আক্তার দুই সন্তানের জননী। তাঁর স্বামী সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন।
এর আগে রহমত উল্লাহ চৌদ্দগ্রাম ও জুরাছড়ি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ২০১৭ সালের ২ মে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। একই বছর সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ও ঢাকার সাভার উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সীমান্তবর্তী অবস্থান, বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কার্যক্রম, মানবিক সহায়তার চ্যালেঞ্জ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও মানবপাচার, যানজট এবং জলবায়ু ঝুঁকির কারণে উখিয়াকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেবা ব্যবস্থাপনা, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় স্থানীয় প্রশাসনের জন্য প্রতিনিয়ত বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সমস্যা সমাধান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় নারী ইউএনও হিসেবে পান্না আক্তারের উখিয়ায় আগমনকে অনেকে নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রা এবং সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণকারী পান্না আক্তার উখিয়ার মতো আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এলাকায় দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনে লিঙ্গসমতা ও নারী ক্ষমতায়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ, কঠোর পরিশ্রম,পেশাদারিত্ব, সাহসীকতা, জনবান্ধব মনোভাব ও দায়িত্ববোধ উখিয়ার প্রশাসনে নতুন গতি আনবে। তবে অনেকের মতে, রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান জটিল প্রশাসনিক বাস্তবতা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি এ চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে কতটা জনবান্ধব ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবুও উখিয়াবাসী আশাবাদী যে একজন দক্ষ, সাহসী ও পরিশ্রমী নারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উখিয়ার প্রশাসনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

উল্লেখ্য, উখিয়ার প্রথম নারী ইউএনও হিসেবে ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা রিফাত আসমা দায়িত্ব পালনকালে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

anwar

anwar

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

চ্যালেঞ্জের জনপদ উখিয়ার নতুন ইউএনও পান্না আক্তার

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

চ্যালেঞ্জের জনপদ উখিয়ার নতুন ইউএনও পান্না আক্তার

প্রতিবেদক: সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার : | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ন
Print Image
উখিয়ার ৪৩ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে ১৬ জুন ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ৩৬তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা পান্না আক্তার। ১৯৮৩ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর টানা দ্বিতীয় নারী হিসেবে তিনি এ পদে আসীন হয়েছেন, যা উখিয়ার প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২ জুন ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত সিনিয়র সহকারী কমিশনার পান্না আক্তারকে উখিয়া উপজেলার ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়। পান্না আক্তার এর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সময়ে তিনি সহকারী রিটার্নিং অফিসার,আলমডাঙ্গা উপজেলা ও আলমডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক এবং আলমডাঙ্গা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। একযোগে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলভাবে পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও দক্ষ ও পরিণত করেছে। সীমান্তবর্তী, রোহিঙ্গা সংকটকেন্দ্রিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত এবং বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জপূর্ণ উপজেলা উখিয়ায় দায়িত্ব পালনের জন্য এ অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও প্রস্তুত করেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে তিনি সরকারি চাকরিজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসনে একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনে রাজস্ব ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) হিসেবে যোগ দিয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি সিনিয়র সহকারী কমিশনার পদে পদোন্নতি লাভ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে আলমডাঙ্গা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের এ ধারাবাহিকতায় তাঁর প্রশাসনিক সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্যভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে পান্না আক্তার দুই সন্তানের জননী। তাঁর স্বামী সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে রহমত উল্লাহ চৌদ্দগ্রাম ও জুরাছড়ি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ২০১৭ সালের ২ মে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। একই বছর সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ও ঢাকার সাভার উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সীমান্তবর্তী অবস্থান, বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার কার্যক্রম, মানবিক সহায়তার চ্যালেঞ্জ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও মানবপাচার, যানজট এবং জলবায়ু ঝুঁকির কারণে উখিয়াকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাসের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সেবা ব্যবস্থাপনা, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় স্থানীয় প্রশাসনের জন্য প্রতিনিয়ত বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সমস্যা সমাধান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সরকারি জমি দখলমুক্ত করা, রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন হয়। এমন প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় নারী ইউএনও হিসেবে পান্না আক্তারের উখিয়ায় আগমনকে অনেকে নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রা এবং সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণকারী পান্না আক্তার উখিয়ার মতো আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এলাকায় দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে প্রশাসনে লিঙ্গসমতা ও নারী ক্ষমতায়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তাঁর অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ, কঠোর পরিশ্রম,পেশাদারিত্ব, সাহসীকতা, জনবান্ধব মনোভাব ও দায়িত্ববোধ উখিয়ার প্রশাসনে নতুন গতি আনবে। তবে অনেকের মতে, রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান জটিল প্রশাসনিক বাস্তবতা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি এ চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করে কতটা জনবান্ধব ও মানবিক প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তা সময়ই বলে দেবে। তবুও উখিয়াবাসী আশাবাদী যে একজন দক্ষ, সাহসী ও পরিশ্রমী নারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উখিয়ার প্রশাসনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। উল্লেখ্য, উখিয়ার প্রথম নারী ইউএনও হিসেবে ৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা রিফাত আসমা দায়িত্ব পালনকালে কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার জন্য ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি ফেনী জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×