হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

চবিতে এক বছরে ৬৮ কোটি টাকার অনিয়ম

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩, ১২:১৩ অপরাহ্ন

সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ২০২১-২২ অর্থবছরে এসব অর্থ জমা দেয়নি। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২৯ কোটি ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। শুধু এটি নয়, চবিতে এমন আরও ২৭ খাতে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে অডিট প্রতিষ্ঠান মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)। এতে ২০২১-২২ অর্থবছরে সর্বমোট ৬৮ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এটিকে ‘অনিয়ম’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এসব অব্যয়িত অর্থ সুবিধাভোগীদের ফেরত দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব খাতে আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে, তা বহুদিন ধরে চলছে। স্বায়ত্তশাসন থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের প্রয়োজনে নিয়ম তৈরি করতে পারে। এরই অপব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা মনে করেন না যে আইনে কেবল একাডেমিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, আর্থিক নয়। এক্ষেত্রে তাদেরকে দেশের আইনকানুনের মধ্যে থেকেই আর্থিক প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে।

nagad
nagad

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মো. আবু তাহের সিভয়েসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দেশে প্রচলিত আইন, বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।

তিনি বলেন, অডিট আপত্তির বিষয়টি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জানতে চাইবো। তারা যদি এ টাকা খরচের সুনির্দিষ্ট যুক্তি না দেখাতে পারেন তাহলে সুনির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অবশ্যই এ টাকা ফেরত দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। এখন না দিলে পেনশন থেকে কাটা যাবে।

আরও পড়ুন

কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসসহ ৩ খেলায় নিয়মিত অনুশীলনের নির্দেশ

যে ২৭ খাতে অনিয়ম:
বিধি বহির্ভূতভাবে শিক্ষকদেরকে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ৩১৬ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণকে প্রদত্ত অগ্রিম সমন্বয় করা হয়নি ৫ কোটি ৩২ লাখ ৭ হাজার ২৩৭ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে বসবাস করা সত্ত্বেও শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন বিল হতে নির্ধারিত হারে বাড়ি ভাড়া কর্তন না করায় আর্থিক ক্ষতি ১ কোটি ২২ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৯ টাকা, পদ ছাড়াই অর্গানোগ্রাম বহির্ভূত বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানপূর্বক দায়িত্ব ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬২ টাকা, ডিজিটাল লাইব্রেরি সেবার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে বরাদ্দকৃত সরকারের অনুদান মঞ্জুরি থেকে ইউজিসি কর্তৃক অনিয়মিতভাবে কর্তন ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৬২ টাকা, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি ২৯ কোটি ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪০ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণকে বিধি বহির্ভূতভাবে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত বই ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৬০৯ টাকা, দোকান ও মার্কেট ভাড়া বাবদ অনাদায়ী অর্থ আদায় না করায় আর্থিক ক্ষতি ৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৮০ টাকা, নির্ধারিত চাকরিকাল শেষ হওয়ার পরেও সেশন বেনিফিটের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিধি বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত সময়ের চাকরির সুযোগ প্রদান করে বেতন ভাতাদি পরিশোধ করায় আর্থিক ক্ষতি ১ কোটি ৫৪ লাখ ৬৬ হাজার ১২১ টাকা,

প্রদত্ত সম্মানী বিল হতে কর্তনকৃত আয়কর পরিশোধকারী কর্তৃক সরকারি কোষাগারে জমা না করায় রাজস্ব ক্ষতি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৫৩০ টাকা, ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফি হতে প্রাপ্ত আয়ের ৪০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা প্রদান না করায় আর্থিক ক্ষতি ৪ কোটি ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা, বিধি বহির্ভূতভাবে প্রাপ্যতা ছাড়াই গবেষণা ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৯ টাকা, গবেষণা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও রিপোর্ট দাখিল না করে প্রকল্পের জন্য মঞ্জুরিকৃত অর্থ অনিয়মিতভাবে ব্যয় ৬০ লাখ টাকা।

সিটি করপোরেশনের এলাকার বাইরে হওয়া সত্ত্বেও কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ৫২ লাখ ৫৯ হাজার ৬০০ টাকা, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদকে অনিয়মিতভাবে চাঁদা প্রদান ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য হার অপেক্ষা বেশি হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ২ কোটি ৮২ লাখ ৩৬ হাজার ১৩৮ টাকা, ইউজিসির নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের বেতনভাতা রাজস্ব বাজেট হতে প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ২ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ২৫৬ টাকা।

আর্থিক ক্ষমতা বহির্ভূত গাড়ি মেরামত বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় করায় আর্থিক ক্ষতি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৮১২ টাকা, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনিয়মিতভাবে সময় বর্ধন করে ঠিকাদারকে সুবিধা প্রদান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অনিয়মিতভাবে বিল পরিশোধ ১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৭ টাকা,

পিপিআর ২০০৮ লঙ্ঘন করে আরএফকিউ পদ্ধতিতে সিলিং অতিরিক্ত অনিয়মিত ব্যয় ৪২ লাখ ৬৩ হাজার ১০৬ টাকা, প্রাপ্যতাবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অধিককাল/ওভারটাইম ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ টাকা, অকেজো/মেরামতযোগ্য গাড়ি মেরামত/নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা না করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় সরকারের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা, বিশ্ববিদ্যালয় আইন এর ধারা ৫৭ (১,২) মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক হিসাব ও ব্যালেন্সশিট প্রস্তুত না করায় বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন, আপাতিক ব্যয় নামে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের যাতায়াত ও আপ্যায়ন ভাতা বিধি বহির্ভূত পরিশোধ করায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৬৩৭ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত দোকানের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল অনাদায়ী ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৪ টাকা,

অনুমোদিত সংশোধিত প্রাক্কলনে নির্ধারিত কাজের পরিমাণ অপেক্ষা অতিরিক্ত কাজের পরিমাণ গ্রহণ করে ঠিকাদারকে সরকারি তহবিল হতে বিল পরিশোধ করায় আর্থিক ক্ষতি ৬ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৮ টাকা। সর্বমোট ৬৮ কোটি ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৩ টাকার নিয়মবহির্ভূত খরচের প্রমাণ মিলেছে সিএজির অডিটে।

যা বলছে প্রশাসন:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসাব নিয়ামক আমিনুল ইসলাম বলেন, ৬৮ কোটি টাকা অনিয়মের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। কোনো বিষয়ে অডিট আপত্তি থাকলে আমরা জবাব দেবো। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছি। অডিট হচ্ছে রুটিন ওয়ার্ক। সরকারের কাছ থেকে অডিট পরিচালিত হয়। তারা বিভিন্ন পরামর্শ দেন। আমরাও সেগুলো আমলে নিয়ে থাকি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

চবিতে এক বছরে ৬৮ কোটি টাকার অনিয়ম

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

চবিতে এক বছরে ৬৮ কোটি টাকার অনিয়ম

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: শনিবার, ৮ জুলাই ২০২৩, ১২:১৩ অপরাহ্ন
Print Image
সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। কিন্তু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ২০২১-২২ অর্থবছরে এসব অর্থ জমা দেয়নি। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ২৯ কোটি ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। শুধু এটি নয়, চবিতে এমন আরও ২৭ খাতে অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে অডিট প্রতিষ্ঠান মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)। এতে ২০২১-২২ অর্থবছরে সর্বমোট ৬৮ কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এটিকে ‘অনিয়ম’ আখ্যা দিয়ে বলেছে, এসব অব্যয়িত অর্থ সুবিধাভোগীদের ফেরত দিতে হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেসব খাতে আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে, তা বহুদিন ধরে চলছে। স্বায়ত্তশাসন থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের প্রয়োজনে নিয়ম তৈরি করতে পারে। এরই অপব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা মনে করেন না যে আইনে কেবল একাডেমিক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, আর্থিক নয়। এক্ষেত্রে তাদেরকে দেশের আইনকানুনের মধ্যে থেকেই আর্থিক প্রশাসন পরিচালনা করতে হবে। nagad nagad বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মো. আবু তাহের সিভয়েসকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই দেশে প্রচলিত আইন, বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। তিনি বলেন, অডিট আপত্তির বিষয়টি আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জানতে চাইবো। তারা যদি এ টাকা খরচের সুনির্দিষ্ট যুক্তি না দেখাতে পারেন তাহলে সুনির্দিষ্ট নিয়মানুসারে অবশ্যই এ টাকা ফেরত দিতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। এখন না দিলে পেনশন থেকে কাটা যাবে। যে ২৭ খাতে অনিয়ম: বিধি বহির্ভূতভাবে শিক্ষকদেরকে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ৬৮ লাখ ৯০ হাজার ৩১৬ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাগণকে প্রদত্ত অগ্রিম সমন্বয় করা হয়নি ৫ কোটি ৩২ লাখ ৭ হাজার ২৩৭ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে বসবাস করা সত্ত্বেও শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন বিল হতে নির্ধারিত হারে বাড়ি ভাড়া কর্তন না করায় আর্থিক ক্ষতি ১ কোটি ২২ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৯ টাকা, পদ ছাড়াই অর্গানোগ্রাম বহির্ভূত বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদানপূর্বক দায়িত্ব ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ২ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬২ টাকা, ডিজিটাল লাইব্রেরি সেবার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে বরাদ্দকৃত সরকারের অনুদান মঞ্জুরি থেকে ইউজিসি কর্তৃক অনিয়মিতভাবে কর্তন ৯ লাখ ৮৬ হাজার ৫৬২ টাকা, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না করায় সরকারের আর্থিক ক্ষতি ২৯ কোটি ৯ লাখ ৬৫ হাজার ৪৪০ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণকে বিধি বহির্ভূতভাবে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত বই ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৬০৯ টাকা, দোকান ও মার্কেট ভাড়া বাবদ অনাদায়ী অর্থ আদায় না করায় আর্থিক ক্ষতি ৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৮০ টাকা, নির্ধারিত চাকরিকাল শেষ হওয়ার পরেও সেশন বেনিফিটের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিধি বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত সময়ের চাকরির সুযোগ প্রদান করে বেতন ভাতাদি পরিশোধ করায় আর্থিক ক্ষতি ১ কোটি ৫৪ লাখ ৬৬ হাজার ১২১ টাকা, প্রদত্ত সম্মানী বিল হতে কর্তনকৃত আয়কর পরিশোধকারী কর্তৃক সরকারি কোষাগারে জমা না করায় রাজস্ব ক্ষতি ৫১ লাখ ৯১ হাজার ৫৩০ টাকা, ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার ফি হতে প্রাপ্ত আয়ের ৪০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলে জমা প্রদান না করায় আর্থিক ক্ষতি ৪ কোটি ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৪০০ টাকা, বিধি বহির্ভূতভাবে প্রাপ্যতা ছাড়াই গবেষণা ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৩ হাজার ৬০৯ টাকা, গবেষণা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও রিপোর্ট দাখিল না করে প্রকল্পের জন্য মঞ্জুরিকৃত অর্থ অনিয়মিতভাবে ব্যয় ৬০ লাখ টাকা। সিটি করপোরেশনের এলাকার বাইরে হওয়া সত্ত্বেও কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ৫২ লাখ ৫৯ হাজার ৬০০ টাকা, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদকে অনিয়মিতভাবে চাঁদা প্রদান ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রাপ্য হার অপেক্ষা বেশি হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ২ কোটি ৮২ লাখ ৩৬ হাজার ১৩৮ টাকা, ইউজিসির নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে অবস্থিত স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের বেতনভাতা রাজস্ব বাজেট হতে প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ২ কোটি ১১ লাখ ১৫ হাজার ২৫৬ টাকা। আর্থিক ক্ষমতা বহির্ভূত গাড়ি মেরামত বাবদ অতিরিক্ত ব্যয় করায় আর্থিক ক্ষতি ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ৮১২ টাকা, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনিয়মিতভাবে সময় বর্ধন করে ঠিকাদারকে সুবিধা প্রদান, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অনিয়মিতভাবে বিল পরিশোধ ১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৬২ হাজার ৮৭৭ টাকা, পিপিআর ২০০৮ লঙ্ঘন করে আরএফকিউ পদ্ধতিতে সিলিং অতিরিক্ত অনিয়মিত ব্যয় ৪২ লাখ ৬৩ হাজার ১০৬ টাকা, প্রাপ্যতাবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অধিককাল/ওভারটাইম ভাতা প্রদান করায় আর্থিক ক্ষতি ৭৮ লাখ ৮০ হাজার ৫৬০ টাকা, অকেজো/মেরামতযোগ্য গাড়ি মেরামত/নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা না করে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় সরকারের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা, বিশ্ববিদ্যালয় আইন এর ধারা ৫৭ (১,২) মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক হিসাব ও ব্যালেন্সশিট প্রস্তুত না করায় বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন, আপাতিক ব্যয় নামে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের যাতায়াত ও আপ্যায়ন ভাতা বিধি বহির্ভূত পরিশোধ করায় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৬৩৭ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত দোকানের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল অনাদায়ী ১৯ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৪ টাকা, অনুমোদিত সংশোধিত প্রাক্কলনে নির্ধারিত কাজের পরিমাণ অপেক্ষা অতিরিক্ত কাজের পরিমাণ গ্রহণ করে ঠিকাদারকে সরকারি তহবিল হতে বিল পরিশোধ করায় আর্থিক ক্ষতি ৬ লাখ ৩৫ হাজার ২৯৮ টাকা। সর্বমোট ৬৮ কোটি ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৯৬৩ টাকার নিয়মবহির্ভূত খরচের প্রমাণ মিলেছে সিএজির অডিটে। যা বলছে প্রশাসন: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান হিসাব নিয়ামক আমিনুল ইসলাম বলেন, ৬৮ কোটি টাকা অনিয়মের বিষয়ে আমাদের কিছু জানা নেই। কোনো বিষয়ে অডিট আপত্তি থাকলে আমরা জবাব দেবো। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছি। অডিট হচ্ছে রুটিন ওয়ার্ক। সরকারের কাছ থেকে অডিট পরিচালিত হয়। তারা বিভিন্ন পরামর্শ দেন। আমরাও সেগুলো আমলে নিয়ে থাকি। সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদের ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×