ঢাকা, ০৪ অক্টোবর – জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। মঙ্গলবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
নসরুল হামিদ বলেন, তেলের দাম বাড়েওনি, কমেওনি। যে রকম ছিল সেই রকমই আছে। যারা তেল সরবরাহ করে তাদের কমিশনের ক্ষেত্রে একটা ফর্মুলা দেওয়া হয়েছে। অনেকে গ্যাজেটে প্রথম ছবি দিয়ে বলতেছে তেলের দাম কমে গেছে, কিন্তু এরপর যে আফটার ট্যাক্সের মাধ্যমে দাম দেওয়া হয়েছে সেটা দেখানো হয়নি। সুতরাং তেলের দাম বেড়েছে এমন বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই।
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
তিনি বলেন, অনেকে গেজেটের প্রথম অংশটা দিয়ে বলছে, তেলের দাম কমেছে। দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় গিয়ে যে ট্যাক্স যোগ হয়েছে, সেটা আর দেখাচ্ছে না।
নসরুল হামিদ বলেন, আমার মনে হয় এই ধরনের গুজবে কান না দেওয়া ভালো। মন্ত্রণালয় থেকে যেভাবে গেজেট হয়েছে, বিপিসির কাছে জিজ্ঞেস করলেই পাওয়া যাবে। আমি মনে করি সাংবাদিক ভাইয়েরাও এটা নিয়ে কথা বলতে পারে।
এদিকে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জ্বালানি তেলের ডিলার পর্যায়ে কমিশন বৃদ্ধি ও তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সমন্বয় কার্যকর করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলের দাম মূল্য সংযোজন করসহ (মূসক) নির্ধারণ করা হয়েছে ১০৯ টাকা। কেরোসিন মূসকসহ ১০১ টাকা ৪৪ পয়সা, মূসকসহ অকটেনের মূল্য ১১৯ টাকা ৬২ পয়সা এবং মূসকসহ পেট্রল ১১৪ টাকা ৮৬ পয়সা করা হয়েছে।
বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেল ও কেরোসিন লিটার প্রতি ১০৯ টাকা, পেট্রল ১২৫ টাকা এবং অকটেন ১৩০ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে।
ডিজেলের নতুন মূল্য কাঠামোতে বলা হয়েছে, প্রকৃত মূল্য ৮৮ টাকা ২১ পয়সার সঙ্গে মূসক ১৩ টাকা ২৩ পয়সা যোগ করে এক্স-রিফাইনারি মূল্য ১০১ টাকা ৪৪ পয়সা।
ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসক ২ টাকা ১৪ পয়সা, বিপণন কম্পানির মার্জিন ৫০ পয়সা, পরিবহন ভাড়ার তহবিল হিসাব ৯০ পয়সা, বিপিসির জ্বালানি তেলখাত উন্নয়ন তহবিল ১০ পয়সা মিলে স্থাপনা মূল্যকেন্দ্র মূল্য ১০৫ টাকা ০৮ পয়সা। এর সঙ্গে যুক্ত হবে ডিলারদের স্থানীয় পরিবহন খরচ (৪০ কিলোমিটারের মধ্যে) ৯৩ পয়সা, ডিলার ও এজেন্ট কমিশন ২ টাকা ৯৯ পয়সা। সব মিলিয়ে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১০৯ টাকা।
অন্যদিকে, কেরোসিনে মূসক ১৩ টাকা ৩৪ পয়সা, পেট্রলে ১৪ টাকা ৯৮ পয়সা এবং অকটেনে ১৫ টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর ডিলার বা এজেন্ট পর্যায়ে কমিশন নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। গেজেটে জ্বালানি তেলের মূল্য পুনর্নির্ধারণ/সমন্বয়ের (বৃদ্ধি/হাস) ক্ষেত্রে অবচয় এবং সব খরচসহ ডিলার/এজেন্টস্ কমিশন এবং ট্যাংকলরির ভাড়াসহ অকটেনে ৪ দশমিক ২৮ শতাংশ, পেট্রোলে ৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ, কেরোসিনে ২ শতাংশ ও ডিজেলে ২ দশমিক ৮৫ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ করে সরকার।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
আইএ/ ০৪ অক্টোবর ২০২৩





মন্তব্য করুন