হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

আরসা প্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে খুন হন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ ২০২২, ০৮:৩০ অপরাহ্ন

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে খুনের নির্দেশ দিয়েছেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এর
প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী। আর হত্যায় অংশ নেন প্রায় ২৫ জন।

এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া চারজনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই চার আসামি হলেন- আজিজুল হক, হামিদ হোসেন, নাজিম উদ্দিন ও মো. ইলিয়াস। তারা নিজেদের আরসা সদস্য বলে দাবি করেন এবং মুহিবুল্লাহ হত্যায় অংশ নেন বলে পুলিশকে জানান।

তারা গত বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

আরও পড়ুন

কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির দাবিও

আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। তার পরিবার এ হত্যার জন্য আরসাকে দায়ী করে আসছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি মো. ইলিয়াস বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে মুহিবুল্লাহ সচেষ্ট ছিলেন। আরসার অবস্থান প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক চোরাচালান ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে মুহিবুল্লাহকে আরসা নেতাদের নির্দেশে খুন করা হয়।

আরেক আসামি আজিজুল হক বলেন, মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গা শিবিরে জনপ্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন। তিনি রোহিঙ্গা শিবিরে আরসার কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়ান। আরসার প্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে মুহিবুল্লাহকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে ক্যাম্প-১ এর একটি ঘরে বৈঠক করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।

অন্য আসামি হামিদ হোসেন জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার দিন (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তারা শিবিরের মোস্তফা কামালের বাসায় জড়ো হন। সেখানে আবদুর রহিমসহ ১২ জনকে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখতে পান হামিদ। সবার হাতে ছিল ছোট অস্ত্র।

নাজিম উদ্দিনের জবানবন্দিতে বলা হয়, মুহিবুল্লাহকে পরপর দুটি গুলি করেন জাহিদ হোসেন। ফয়েজ উল্লাহ করেন একটি গুলি। ছমি উদ্দিন করেন আরেকটি। মোট পাঁচটি গুলি করা হয়।

পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। সর্বশেষ ৬ মার্চ গ্রেফতার করা হয় মাওলানা জাকারিয়াকে। তিনি আরসার ওলামা শাখার প্রধান হিসেবে পরিচিত।

মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দিন বলেন, আরসা নেতা আতাউল্লাহর নির্দেশে মুহিবুল্লাহকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়। হত্যাকাণ্ডে প্রায় ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, আতাউল্লাহ এখানে নেই। তবে হত্যায় জড়িত তার সহযোগীদের কেউ কেউ এখানে আছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তবে আতাউল্লাহর ভাই মো. শাহ আলীকে গত ১৬ জানুয়ারি রোহিঙ্গা শিবির থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ পুলিশ গ্রেফতার করে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ভাইয়ের সঙ্গে শাহ আলীর যোগাযোগ নেই।

এদিকে মুহিবুল্লাহর স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, মূল খুনিরা গ্রেফতার হননি। তাই তিনি ৯ ছেলেমেয়ে নিয়ে আতঙ্কে আছেন।

মুহিবুল্লাহর হত্যাকারী বাকি আসামিদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান।

তিনি বলেন, নিহত মুহিবুল্লাহর পরিবারের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি যাতে না হয়, সে জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

আরসা প্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে খুন হন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

আরসা প্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে খুন হন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ মার্চ ২০২২, ০৮:৩০ অপরাহ্ন
Print Image
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে খুনের নির্দেশ দিয়েছেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) এর প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনী। আর হত্যায় অংশ নেন প্রায় ২৫ জন। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া চারজনের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই চার আসামি হলেন- আজিজুল হক, হামিদ হোসেন, নাজিম উদ্দিন ও মো. ইলিয়াস। তারা নিজেদের আরসা সদস্য বলে দাবি করেন এবং মুহিবুল্লাহ হত্যায় অংশ নেন বলে পুলিশকে জানান। তারা গত বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে কক্সবাজারের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) এর চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহকে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং শিবিরে সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে। তার পরিবার এ হত্যার জন্য আরসাকে দায়ী করে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি মো. ইলিয়াস বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে মুহিবুল্লাহ সচেষ্ট ছিলেন। আরসার অবস্থান প্রত্যাবাসনের বিরুদ্ধে। এছাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক চোরাচালান ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানের কারণে মুহিবুল্লাহকে আরসা নেতাদের নির্দেশে খুন করা হয়। আরেক আসামি আজিজুল হক বলেন, মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গা শিবিরে জনপ্রিয় নেতা হয়ে ওঠেন। তিনি রোহিঙ্গা শিবিরে আরসার কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়ান। আরসার প্রধান আতাউল্লাহর নির্দেশে মুহিবুল্লাহকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টার দিকে ক্যাম্প-১ এর একটি ঘরে বৈঠক করে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। অন্য আসামি হামিদ হোসেন জবানবন্দিতে বলেন, ঘটনার দিন (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তারা শিবিরের মোস্তফা কামালের বাসায় জড়ো হন। সেখানে আবদুর রহিমসহ ১২ জনকে মাস্ক পরা অবস্থায় দেখতে পান হামিদ। সবার হাতে ছিল ছোট অস্ত্র। নাজিম উদ্দিনের জবানবন্দিতে বলা হয়, মুহিবুল্লাহকে পরপর দুটি গুলি করেন জাহিদ হোসেন। ফয়েজ উল্লাহ করেন একটি গুলি। ছমি উদ্দিন করেন আরেকটি। মোট পাঁচটি গুলি করা হয়। পুলিশ এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। সর্বশেষ ৬ মার্চ গ্রেফতার করা হয় মাওলানা জাকারিয়াকে। তিনি আরসার ওলামা শাখার প্রধান হিসেবে পরিচিত। মুহিবুল্লাহ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দিন বলেন, আরসা নেতা আতাউল্লাহর নির্দেশে মুহিবুল্লাহকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়। হত্যাকাণ্ডে প্রায় ২৫ জন অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আতাউল্লাহ এখানে নেই। তবে হত্যায় জড়িত তার সহযোগীদের কেউ কেউ এখানে আছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে আতাউল্লাহর ভাই মো. শাহ আলীকে গত ১৬ জানুয়ারি রোহিঙ্গা শিবির থেকে অস্ত্র ও মাদকসহ পুলিশ গ্রেফতার করে। তদন্ত কর্মকর্তার দাবি, ভাইয়ের সঙ্গে শাহ আলীর যোগাযোগ নেই। এদিকে মুহিবুল্লাহর স্ত্রী নাছিমা বেগম বলেন, মূল খুনিরা গ্রেফতার হননি। তাই তিনি ৯ ছেলেমেয়ে নিয়ে আতঙ্কে আছেন। মুহিবুল্লাহর হত্যাকারী বাকি আসামিদের গ্রেফতারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান। তিনি বলেন, নিহত মুহিবুল্লাহর পরিবারের নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি যাতে না হয়, সে জন্য পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×