হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

পেকুয়ায় চলছে মাটি লুটের মহোৎসব

প্রতিবেদকের নাম:

প্রতিবেদকের নাম:

বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:২২ অপরাহ্ন

নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া (কক্সবাজার) ::

কক্সবাজারের পেকুয়ায় চলছে ফসলির মাটি লুটের মহোৎসব। জমির উর্বর শক্তির এসব মাটি দেদারসে লুট হলেও নেই আইনী প্রয়োগ। দিবারাত্রি চলছে ফসলি জমি থেকে হরদম মাটি লুট। তবে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নতজানু ভাব নিরবতা নিয়ে আছে নানান ধরণের প্রশ্ন। ফসলি জমির মাটি জমির প্রাণ শক্তি। এসব প্রাণশক্তি হ্রাস পেয়ে ফসলি জমি হচ্ছে ফসল উৎপাদনের নিস্তেজ হয়ে পড়লেও দেখার যেন কেউ নেই।

অপরদিকে এসব মাটি লুট হয়ে যাচ্ছে ইট ভাটায়। মাটি ইট উৎপাদনের মুল ও মৌলিক উপদান। মাটি দিয়ে ইট উৎপাদন না করতে সরকার আইন করেছে। বিশেষ করে ফসলি জমির টপসয়েল যাতে করে ইট উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত না হতে পারে এ আইন বলবৎ আছে। তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই পেকুয়ায়।

চলতি সময়ে গত এক মাস আগে থেকে পেকুয়া উপজেলায় টপসয়েল লুটের মহোৎসব চলমান রয়েছে। বাংলা অগ্রহায়ন মাস থেকে কৃষক জমি থেকে ধান কাটা শুরু করে। কোন কোন ক্ষেত্রে নিন্মাঞ্চলের জমি থেকে ফসল কাটতে কিছুটা বিলম্বিত সময় হয়। বিশেষ করে বাংলা পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময় অতিবাহিত হয়। ধান কাটার শেষে জমি থেকে শুরু হয় মাটি কাটা।

আরও পড়ুন

জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য: অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এনসিপি ছেড়েছেন তাসনিম জারা, তাজনূভা ও সামান্তা শারমিন

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখাগেছে, পেকুয়া উপজেলার সব ইউনিয়নে চলছে মাটি কাটা। রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়াসহ এ তিনটি ইউনিয়নে লবণের মাঠ আছে। তবে ফসলি জমিও আছে। পেকুয়া সদর, বারবাকিয়া, শিলখালী ও টইটং ইউনিয়নে বেড়েছে মাটি লুটের ব্যস্থতা। এ চার ইউনিয়নে এমন কোন বিল নেই মাটি লুট হচ্ছেনা। টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের ফসলি জমি থেকে সবচেয়ে বেশি মাটি লুট হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখাগেছে, টইটংয়ের পুর্ব সোনাইছড়ি, পশ্চিম সোনাইছড়ি, নাপিতখালী, হাবিব পাড়ায় ফসলি জমি থেকে মাটি লুট হচ্ছে। বারবাকিয়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া, সবজীবন পাড়া, নয়াকাটা, পাহাড়ীয়াখালীর মগঘোনার বিল থেকে কাটা হচ্ছে মাটি।

শিলখালী ইউনিয়নের সিকদারঘোনা, কাছারীমুরার দক্ষিণ দিকে আলিগ্যাকাটার বিলের মাটিও কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সদর ইউনিয়নের সরকারি ঘোনা, পুর্ব গোঁয়াখালী, বলির পাড়া, সাবেকগুলদি, সুতাবেপারী পাড়ায় ফসলি জমির মাটি লুট হচ্ছে। স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। পরিবহনের জন্য আছে সিন্ডিকেটের শতাধিক ডাম্পার গাড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রতি গাড়ি মাটি বোঝাই করে দিতে স্কেবেটর মালিককে দিতে হয় দেড়শো টাকা। প্রতি ডাম্পার মাটি বিক্রি হয় দুরত্ব অনুসারে ১হাজার থেকে বারশো টাকা। লবণাক্ত ইউনিয়নগুলোতেও কিছু কিছু এলাকায় ফসলি জমি আছে। এসব জমি থেকেও মাটি লুট হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন কিছু স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। মাটি লুটের দায়ে কয়েকজনকে আইনের আওতায় এনেছে। ওই সময় থেকে কিছুটা ভয়ের মধ্যে আছে মাটি লুট সিন্ডিকেট। তবে তারা পাল্টিয়েছে ধরণ। দিনে কিছুটা হ্রাস পেলেও রাতের বেলায় ঠিকই লুট হচ্ছে মাটি।

মগঘোনা বিলের কয়েকজন কৃষক জানান, খুবই মারাত্বক অবস্থা। এভাবে মাটি কেটে ফেললে জমি থেকে ফসল উৎপাদন হবেনা। চারিদিকে মাটি লুট হলেও আইনি কোন ব্যবস্থা নেই। প্রশাসন চাইলে মাটি লুট বন্ধ হবে।

সোনাইছড়ি মাঝের পাড়ার লোকজন জানান, মাটি বোঝাই ডাম্পার, ট্রাক রাস্তা ঘাট নষ্ট করে ফেলছে। ধুলোবালিতে সড়ক দিয়ে হাঁটা চলা যাচ্ছেনা। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই। জমি তো শেষ হয়ে যাচ্ছে সাথে রাস্তাঘাটও ধ্বসে যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুর পেয়ারা বেগম জানান, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে মাটি পাচারকারীরা মোকামে মোকামে লোক বসায় রাখে। তারা খুব কৌশলী। যার কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। এখন আমরা অভিযানে বের হচ্ছি।
###

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

কক্সবাজার
Card Image

পেকুয়ায় চলছে মাটি লুটের মহোৎসব

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

পেকুয়ায় চলছে মাটি লুটের মহোৎসব

প্রতিবেদক: প্রতিবেদকের নাম: | প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৫, ০৫:২২ অপরাহ্ন
Print Image
নাজিম উদ্দিন, পেকুয়া (কক্সবাজার) :: কক্সবাজারের পেকুয়ায় চলছে ফসলির মাটি লুটের মহোৎসব। জমির উর্বর শক্তির এসব মাটি দেদারসে লুট হলেও নেই আইনী প্রয়োগ। দিবারাত্রি চলছে ফসলি জমি থেকে হরদম মাটি লুট। তবে প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নতজানু ভাব নিরবতা নিয়ে আছে নানান ধরণের প্রশ্ন। ফসলি জমির মাটি জমির প্রাণ শক্তি। এসব প্রাণশক্তি হ্রাস পেয়ে ফসলি জমি হচ্ছে ফসল উৎপাদনের নিস্তেজ হয়ে পড়লেও দেখার যেন কেউ নেই। অপরদিকে এসব মাটি লুট হয়ে যাচ্ছে ইট ভাটায়। মাটি ইট উৎপাদনের মুল ও মৌলিক উপদান। মাটি দিয়ে ইট উৎপাদন না করতে সরকার আইন করেছে। বিশেষ করে ফসলি জমির টপসয়েল যাতে করে ইট উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত না হতে পারে এ আইন বলবৎ আছে। তবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নেই পেকুয়ায়। চলতি সময়ে গত এক মাস আগে থেকে পেকুয়া উপজেলায় টপসয়েল লুটের মহোৎসব চলমান রয়েছে। বাংলা অগ্রহায়ন মাস থেকে কৃষক জমি থেকে ধান কাটা শুরু করে। কোন কোন ক্ষেত্রে নিন্মাঞ্চলের জমি থেকে ফসল কাটতে কিছুটা বিলম্বিত সময় হয়। বিশেষ করে বাংলা পৌষ মাসের মাঝামাঝি সময় অতিবাহিত হয়। ধান কাটার শেষে জমি থেকে শুরু হয় মাটি কাটা। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখাগেছে, পেকুয়া উপজেলার সব ইউনিয়নে চলছে মাটি কাটা। রাজাখালী, মগনামা ও উজানটিয়াসহ এ তিনটি ইউনিয়নে লবণের মাঠ আছে। তবে ফসলি জমিও আছে। পেকুয়া সদর, বারবাকিয়া, শিলখালী ও টইটং ইউনিয়নে বেড়েছে মাটি লুটের ব্যস্থতা। এ চার ইউনিয়নে এমন কোন বিল নেই মাটি লুট হচ্ছেনা। টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের ফসলি জমি থেকে সবচেয়ে বেশি মাটি লুট হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখাগেছে, টইটংয়ের পুর্ব সোনাইছড়ি, পশ্চিম সোনাইছড়ি, নাপিতখালী, হাবিব পাড়ায় ফসলি জমি থেকে মাটি লুট হচ্ছে। বারবাকিয়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া, সবজীবন পাড়া, নয়াকাটা, পাহাড়ীয়াখালীর মগঘোনার বিল থেকে কাটা হচ্ছে মাটি। শিলখালী ইউনিয়নের সিকদারঘোনা, কাছারীমুরার দক্ষিণ দিকে আলিগ্যাকাটার বিলের মাটিও কেটে নিয়ে যাচ্ছে। সদর ইউনিয়নের সরকারি ঘোনা, পুর্ব গোঁয়াখালী, বলির পাড়া, সাবেকগুলদি, সুতাবেপারী পাড়ায় ফসলি জমির মাটি লুট হচ্ছে। স্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। পরিবহনের জন্য আছে সিন্ডিকেটের শতাধিক ডাম্পার গাড়ি। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রতি গাড়ি মাটি বোঝাই করে দিতে স্কেবেটর মালিককে দিতে হয় দেড়শো টাকা। প্রতি ডাম্পার মাটি বিক্রি হয় দুরত্ব অনুসারে ১হাজার থেকে বারশো টাকা। লবণাক্ত ইউনিয়নগুলোতেও কিছু কিছু এলাকায় ফসলি জমি আছে। এসব জমি থেকেও মাটি লুট হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন কিছু স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। মাটি লুটের দায়ে কয়েকজনকে আইনের আওতায় এনেছে। ওই সময় থেকে কিছুটা ভয়ের মধ্যে আছে মাটি লুট সিন্ডিকেট। তবে তারা পাল্টিয়েছে ধরণ। দিনে কিছুটা হ্রাস পেলেও রাতের বেলায় ঠিকই লুট হচ্ছে মাটি। মগঘোনা বিলের কয়েকজন কৃষক জানান, খুবই মারাত্বক অবস্থা। এভাবে মাটি কেটে ফেললে জমি থেকে ফসল উৎপাদন হবেনা। চারিদিকে মাটি লুট হলেও আইনি কোন ব্যবস্থা নেই। প্রশাসন চাইলে মাটি লুট বন্ধ হবে। সোনাইছড়ি মাঝের পাড়ার লোকজন জানান, মাটি বোঝাই ডাম্পার, ট্রাক রাস্তা ঘাট নষ্ট করে ফেলছে। ধুলোবালিতে সড়ক দিয়ে হাঁটা চলা যাচ্ছেনা। আমরা এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চাই। জমি তো শেষ হয়ে যাচ্ছে সাথে রাস্তাঘাটও ধ্বসে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুর পেয়ারা বেগম জানান, আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তবে মাটি পাচারকারীরা মোকামে মোকামে লোক বসায় রাখে। তারা খুব কৌশলী। যার কারণে একটু সমস্যা হচ্ছে। এখন আমরা অভিযানে বের হচ্ছি। ###

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×