জুলাই স্মরণে
চকরিয়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও মাতামুহুরীকে পুনার্ঙ্গ উপজেলায় উন্নতি করা হবে- সমাবেশে বললেন এমপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক
ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরে স্মরণকালের বিশাল গনমিছিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতে ইসলামী চকরিয়া উপজেলা, চকরিয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে সোমবার (৪ আগষ্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গনমিছিলটি চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া পৌরশহরের চিরিঙ্গা সোসাইটি এলাকা প্রদক্ষিণ করে জনতা শপিং সেন্টার মাঠে এক বিশাল সমাবেশে মিলিত হয়।
মিছিল পরবর্তী অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমেদ আনোয়ারী। প্রধান বক্তা ছিলেন চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কক্সবাজার শহর জামায়াতের
আমীর আব্দুল্লাহ আল ফারুক ।
পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, কড়া নজরে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল বশরের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, আওয়ামী সরকার পরিবর্তনের পর দেশে একটি শ্রেণির মানুষ ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করছে। এর দায় আমরা নির্দিষ্ট কোন দলকে দিতে চাইনা। আগামী নির্বাচনে এই চাঁদাবাজদের জনগণ প্রত্যাখান করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকই আমাদের কাছে সম্মানিত। জামায়াতে ইসলামী জনগণের সম্মান ও অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমাতায়। অথচ প্রশাসন বিভিন্ন দলকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। তিনি প্রশাসনকে কোন দলের পক্ষাবলম্বন না করে জনগণের পক্ষে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, আমরা কারো রক্তচক্ষুকে ভয় করি না। আমরা সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমৃত্যু সংগ্রাম করে যাবো।
সমাবেশে জেলা আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী আনুষ্ঠানিকভাবে আব্দুল্লাহ আল ফারুককে চকরিয়া-পেকুয়া আসন থেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তা চকরিয়া পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল দাবি ছিল একটি বৈষম্যহীন ন্যায় ইনসাফ ভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, ইসলামী আদর্শ ছাড়া দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন দেশ গঠন সম্ভব নয়।”অথচ, আওয়ামী সরকার পরিবর্তনের পর একবছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দেশে দুর্নীতি, বৈষম্য, দখলবাজি ও ফ্যাসিবাদী আচরণ থেকে জনগণ মুক্তি পায়নি।
এ সময় তিনি বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে নির্বাচিত হলে ইনশাআল্লাহ চকরিয়া জনপদে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবো, কক্সবাজার চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ করবো, মাতামুহুরিতে একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০০ শয্যার আসনে জনবল ও সার্বিক উপকরণ বৃদ্ধি করে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও তিনি মাতামুহুরি সাংগঠনিক থানাকে একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা ঘোষণার দাবি জানান।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ , জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আক্তার আহমদ, জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মীর মোহাম্মদ আবু তালহা। সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন পৌরসভা জামায়াতের আমীর আরিফুল কবির, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা আমীর মাওলানা ফরিদুল আলম, চকরিয়া উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান চৌধুরী মানিক, প্রাক্তন উপজেলা আমীর মাওলানা সাবের আহমদ ও মাওলানা মোজাম্মেল হক, চকরিয়া উপজেলা সেক্রেটারী মাওলানা ছৈয়দ করিম, পৌর সেক্রেটারী মাওলানা কুতুবউদ্দিন হেলালী , মাতামুহুরি সেক্রেটারী হোসনে মোবারক, খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রহমান, হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন আহমদ বাবর, বরইতলি ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান সালেকুজ্জামান, লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন পরিষদ এর সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা কাইছার, ছাত্রশিবিরের উপজেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম প্রমুখ।




মন্তব্য করুন