ওয়াশিংটন, ৩১ আগস্ট – যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) প্রায় ৫০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
হোয়াইট হাউস দীর্ঘদিন ধরে ভয়েস অব আমেরিকাকে “উগ্রপন্থি” আখ্যা দিয়ে আসছে। এবার সংস্থাটিকে সীমিত করে আনার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা
রোববার (৩১ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
ভয়েস অব আমেরিকার মূল সংস্থা ইউএস এজেন্সি ফর গ্লোবাল মিডিয়ার (ইউএসএজিএম) ভারপ্রাপ্ত প্রধান কারি লেক এক বিবৃতিতে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত ফেডারেল আমলাতন্ত্র কমাবে, সংস্থার কার্যকারিতা বাড়াবে এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থ সাশ্রয় করবে।”
তবে কর্মচারীদের ইউনিয়ন এটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছে। বিবিসি বলছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রচারণার মোকাবিলায় প্রতিষ্ঠিত ভয়েস অব আমেরিকার বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সম্প্রচারমাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
বিবিসি বলছে, আদালতের এক রায়ের পরপরই গত শুক্রবার রাতে নতুন করে এই ঘোষণা আসে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, ভয়েস অব আমেরিকার পরিচালক মাইকেল আব্রামোভিটজকে বরখাস্ত করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। আদালত লেককে আইনজীবীদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ারও নির্দেশ দেন।
অবশ্য একদল কর্মচারী ভয়েস অব আমেরিকা বন্ধের প্রচেষ্টা ঠেকাতে মামলাটি করেছিলেন। তারা এক বিবৃতিতে বলেন, “আমরা লেকের ধারাবাহিক আক্রমণকে ঘৃণ্য মনে করছি। আমরা আশা করছি আদালতে তার জবানবন্দিতে প্রকাশ পাবে, তিনি কংগ্রেসনির্ধারিত নিয়ম মেনে সংস্থাটিকে ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন কি না। এখন পর্যন্ত তার প্রমাণ আমরা দেখিনি। তাই আইনের আওতায় আমাদের অধিকারের জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”
মূলত ভয়েস অব আমেরিকার অধিকাংশ সাংবাদিক চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে প্রশাসনিক ছুটিতে আছেন। তবে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরু হলে কিছু ফারসি ভাষার সাংবাদিককে কাজে ডাকা হয়। এছাড়া কিউবা সম্প্রচার বিভাগে (যা মায়ামি থেকে স্প্যানিশ ভাষায় সংবাদ প্রচার করে) কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর এই ছাঁটাই প্রযোজ্য হবে না।
সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর আঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব কমিয়ে দেবে। প্রশাসন বরাবরই ভয়েস অব আমেরিকার “ট্রাম্পবিরোধী” ও “উগ্র” হিসেবে অভিযুক্ত করে আসছে।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
এনএন/ ৩১ আগস্ট ২০২৫




মন্তব্য করুন