টেকনাফ ও শাহপরীরদ্বীপ ঘাট থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যাওয়া ৫টি ট্রলার ও অন্তত ৪০জন মাঝিমাল্লাকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। ট্রলার তিনটি টেকনাফ খায়ুকখালীঘাট ও শাহপরীরদ্বীপ বোট ঘাটের ২টি ।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন এলাকা থেকে এসব ট্রলার আটক করা হয়। ট্রলার তিনটির মধ্যে দুটি টেকনাফ পৌরসভাস্থ খায়ুকখালী ঘাটের মোহাম্মদ ইউনুছ ও দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন। অপরটি শাহপরীর দ্বীপ মিস্ত্রি পাড়া এলাকার সাইফুল ইসলামের। এছাড়াও আরো দুটি ট্রলার ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় জেলেরা বলাবলি করলে বুধবার রাত দশটা পর্যন্ত সময়ে সেসব ট্রলারের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ পৌরসভাস্থ কায়ুকখালী ঘাট বোট মালিক সমিতি এডহক কমিটির আহবায়ক সাজেদ আহমেদ বলেন, সেন্টমার্টিন দক্ষিণ থেকে মাছ শিকার করে টেকনাফ কায়ুকখালী বোট ঘাটে ফেরার পথে বঙ্গোপসাগর ও নাফনদের মোহনার কাছাকাছি এলাকা থেকে আরাকানি আর্মি দুটি ট্রলার আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। স্থানীয় মোহাম্মদ ইউনুছ ও দেলোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন ট্রলার দুটিতে ১৫ জন জেলে ছিল।
শাহপরীর দ্বীপের ট্রলার মালিক সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, আমার ট্রলারটি সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়ে ফেরেনি। আরাকান আর্মি কয়েকটি ট্রলার আটকের খবর গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক নামক একটি ফেসবুক পেজে আটক জেলেদের ছবিসহ প্রকাশ করেছে। ওই ছবিতে আমি আমার ট্রলারের দুইজন জেলেকে সনাক্ত করতে পেরেছি। আমার ট্রলারটিতে দশজন জেলে ছিল।
টেকনাফে সিএনজির বিশেষ চেম্বার থেকে ১৩ হাজার ইয়াবা উদ্ধার, চালক আটক
শাহপরীরদ্বীপ জেটিঘাট বোট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, শাহপরীর দ্বীপ বোট ঘাটের একটি ট্রলার মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ধরে নিয়ে গেছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। টেকনাফ খায়ুকখালী ঘাট থেকে আরাকান আর্মি দুটি ট্রলার আটক করেছে। এয়াড়া শাহপরীর দ্বীপ ঘাটের আরো দুটি ট্রলার আটক করেছে এমন খবর পাওয়া গেলেও এখনো সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৫ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে আরাকান আর্মি কয়েক ধাপে নাফনদ ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে ১৩ টি ট্রলারে ৮১ জন জেলেকে আটক করে নিয়ে যায়। এখনো সেসব ট্রলার ফেরত দেয়নি আরাকান আর্মি।




মন্তব্য করুন