ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর – অক্টোবর জুড়ে দেশে পালিত হবে সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা মাস। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিসিএএফ)।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হলেও এর সঙ্গে বাড়ছে সাইবার ঝুঁকি। ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সাইবার হামলা, সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়া, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার মতো ঘটনা প্রমাণ করে সাইবার নিরাপত্তা এখন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, দেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফোন কলসহ ব্যক্তিগত তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হয়েছে বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে।
ইনানীতে নিয়ন্ত্রণহীন গ্যাসের আগুন ঘিরে আতঙ্ক, বিদ্যুৎহীন ৩ হাজার ৮০০ পরিবার
পুলিশের সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সি.পি.সি.) তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৪০টি মামলা হয়েছে। অনেক ঘটনা বাদ পড়ে যাচ্ছে তথ্য-প্রমাণের অভাবে এবং ভুক্তভোগীদের অসচেতনতার কারণে। সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের ২০২৪ সালের গবেষণা অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের ৭৮ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং প্রায় ৫৯ শতাংশ নারী।
ইঞ্জি. সৈয়দ জাহিদ হোসেন বলেন, সাইবার হামলা ও অনলাইন প্রতারণা মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি জনসচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। উন্নতমানের ফায়ারওয়াল বা নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি থাকলেও ব্যবহারকারীরা যদি সচেতন না হন, তবে বড় ক্ষতি এড়ানো যায় না। পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা, মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, সফটওয়্যার আপডেট ও সন্দেহজনক লিংক এড়ানোর মতো নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান তারা।
জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সচেতনতা কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. মুশফিকুর রহমান জানান, এবারের ক্যাম্পেইনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সাইবার সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন’। বৈশ্বিক থিমের সঙ্গে মিল রেখে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রচারণা চালানো হবে—কঠিন পাসওয়ার্ড ব্যবহার, বহুস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সফটওয়্যার আপডেট রাখা ও অনলাইন প্রতারণা চিহ্নিত করে কর্তৃপক্ষকে জানানো।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
এনএন/ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন