জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আসন্ন ৩০ সেপ্টেম্বরের রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনকে ঘিরে কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকালে ১৩ নম্বর ক্যাম্পের খেলার মাঠে রোহিঙ্গা সিভিল সোসাইটির আয়োজনে এই সমাবেশে শত শত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তারা এই সম্মেলনকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করলেও, সেখানে রোহিঙ্গা জনগণের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টি গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।এই কারণেই তারা সম্মেলনের আগে নিজেদের বার্তা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছে দিতে এই সমাবেশের আয়োজন করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন রোহিঙ্গা নেতা মাওলানা সৈয়দ উল্লাহ, মোহাম্মদ শোয়াইব, সাজেদা বেগম, খিন মং এবং জাহাঙ্গীর আলম। তারা বলেন,“আলোচনা আর আশ্বাসে নয়, এখন সময় বাস্তবায়নযোগ্য ও সময়সীমাবদ্ধ সিদ্ধান্ত গ্রহণের। আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে, অথচ আমাদের প্রতিনিধি সেখানে নেই—এটা মেনে নেওয়া যায় না।”রোহিঙ্গা নেতা সৈয়দ উল্লাহ বলেন“আমাদের ছাড়া আমাদের ভাগ্য নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত টেকসই হতে পারে না।”
কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি
রোহিঙ্গাদের তিন দফা দাবি সমাবেশে অংশ নেওয়া শতাধিক রোহিঙ্গা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন এবং সে দাবির ভিত্তিতেই তারা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ ত্যাগ করেন।
দাবিগুলো হলো—
১. পূর্বপুরুষের ভূমি রাখাইনে ফেরত পাঠাতে সময়সীমাবদ্ধ একটি আন্তর্জাতিক রোডম্যাপ প্রণয়ন।
২. নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে জাতিসংঘসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করা।
৩. মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির দ্বারা সংঘটিত গণহত্যার বিচার ও আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।
বক্তারা আরো বলেন, কেবল নীতিনির্ধারকদের সভা-সমাবেশ নয়, রোহিঙ্গাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক স্বীকৃতি ছাড়া এই সংকটের কোনো টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো ব্যাপক সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা।পরবর্তীতে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ এবং ভাসানচর মিলে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয়ে রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই অধিকারবঞ্চিত, কর্মহীন এবং মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।
তারা বছরের পর বছর ধরে বিচার, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে এলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।এই সম্মেলনে অংশ নেবে জাতিসংঘ, ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন।তবে সেখানে রোহিঙ্গা জনগণের সরাসরি কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি, যা নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে শরণার্থী ক্যাম্পে।




মন্তব্য করুন