কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের দরবেশকাট মসজিদপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ সায়েম উদ্দিন নামের একব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারনার মাধ্যমে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সরকারিঘোনার মৃত আবদুল হকের ছেলে প্রবাসি আহমদ নুর নামের এক ভুক্তভোগী।
অভিযুক্ত মোহাম্মদ সায়েম উদ্দিন চকরিয়া উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড মসজিদপাড়ার আজিজুল হকের ছেলে।
আদালতের বিচারক মোঃ আনোয়ারুল কবির বাদির নালিশী মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদির আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ এমরান।
পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি: শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিতের নির্দেশ এনবিআরের, কড়া নজরে ১২৫ প্রতিষ্ঠান
মামলার বাদি ভুক্তভোগী প্রবাসি আহমদ নুর বলেন, বিবাদি মোহাম্মদ সায়েম উদ্দিন আমার দুঃসম্পর্কীয় ভাগিনা হয়। তাঁর স্ত্রীর পৈতৃক সুত্রে প্রাপ্ত ১৮ কড়া জমি বিক্রির প্রস্তাব করলে চুক্তিপত্রের আলোকে তাঁকে বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা, তাঁর স্ত্রীকে নগদ ১০ লাখ টাকা ও সর্বশেষ নগদে ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা বুঝে দিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর তারিখে উভয়পক্ষ চুক্তিপত্র সম্পাদন করি।
কিন্তু এরপে ৮ বছর সময় অতিবাহিত হলেও সায়েম উদ্দিন তাঁর স্ত্রীর পৈতৃক অংশে প্রাপ্ত জমি আমাকে রেজিস্টি দেয়নি। পক্ষান্তরে আমার দেওয়া ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকাও চুক্তিপত্রের বর্ণিত শর্তাবলী অনুযায়ী ফেরত দেয়নি।
ভুক্তভোগী আহমদ নুর বলেন, ৮বছর ধরে অনেক পীড়াপীড়ির পর ২০২৫ সালের ২৯ মে তারিখে বিবাদি সায়েম উদ্দিন ডাচ বাংলা ব্যাংক চকরিয়া শাখায় তাঁর নামীয় হিসাব নাম্বারের বিপরীতে ৫০ লাখ টাকা ৫০ হাজার টাকার একটি ব্যাংক চেক আমাকে প্রদান করে। দুইদিন পর ১ জুন তারিখে আমি ওই চেকটি নিয়ে টাকা উত্তোলন করতে গেলে হিসাব নাম্বারে টাকা না থাকায় ব্যাংক কতৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার দেখিয়ে ফেরত দেন।
এ অবস্থায় পরদিন ২ জুন বিবাদি সায়েম উদ্দিনকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ এমরানের মাধ্যমে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠাই। কিন্তু তিনি লিগ্যাল নোটিশ গ্রহন না করলে গত ১৭ জুন আইনজীবীর কাছে ফেরত আসে।
এ অবস্থায় অনেকটা নিরুপায় হয়ে সর্বশেষ আমি চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযুক্ত সায়েম উদ্দিনের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা ( নং ১৭২৮) দায়ের করি।
বাদির আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ এমরান বলেন, জমি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে মুলত সায়েম উদ্দিন ভুক্তভোগী প্রবাসি আহমদ নুর থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে প্রতারনা করেছে। বাদির মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত এব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কক্সবাজারের সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। #




মন্তব্য করুন