ঢাকা, ১৯ অক্টোবর – জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য জাতিকে আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তার বক্তৃতায় সনদের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে অনেক অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনেছেন। প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তৃতায় আলংকারিক বাহুল্য ও শ্রেষ্ঠত্ববাদী অহমিকার চর্বিতচর্বণ ছাড়া আর কিছুই নেই। মোটাদাগে তার এই অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য জাতিকে আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে।
জাপানের সঙ্গে ২৩টি বড় চুক্তি ও স্মারক সই: ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ
অনৈক্যের প্রভাব খোদ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা এমন এক আপত্তিজনক ও বিতর্কিত বিষয়ের অবতারণা করেছেন, যা রাজনৈতিকভাবে তো বটেই, সমাজতাত্ত্বিক ও দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল। তিনি দুইবার তার বক্তৃতায় ‘বর্বরতা’ ও ‘সভ্যতা’র যে মেরুকরণ করেছেন, তা নিন্দনীয় ও বিদ্বেষমূলক হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ সনদ প্রণীত হয়েছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাই সনদে নারী, লৈঙ্গিক পরিচয়ে সংখ্যালঘু ও আদিবাসীদের ব্যাপারে কোনো আশার আলো নেই। এ সনদ স্বাক্ষর দিবসে সব রাজনৈতিক দল উপস্থিত না থাকলেও সরকার ও ঐকমত্য কমিশন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এই আয়োজন করতে ব্যতিব্যস্ত ছিল বলে মনে হয়েছে। এমতাবস্থায় জুলাই সনদ ঐক্যের ডাক দিতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি প্রশ্নবিদ্ধও হয়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করবে।
বিবৃতিতে শিক্ষক নেটওয়ার্ক বলেছে, মহাসমারোহে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর’ আয়োজনের ঢাকঢোল পেটানো হলেও শুরু থেকেই জুলাই সনদ তৈরির প্রক্রিয়া ও পরিসর নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ছিল। তাই এই অনুষ্ঠান নিয়ে মানুষের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশন ও ঐকমত্য কমিশন প্রতিষ্ঠা, সংস্কার নিয়ে আলাপচারিতা ও সর্বোপরি জুলাই সনদ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে যেভাবে অগ্রসর হয়েছে, তা অভ্যুত্থানের বহু অংশীজনকেই আশাহত করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক মনে করে, ব্রিটিশ ও পশ্চিমা ঔপনিবেশিক আধিপত্যবাদীরা উপনিবেশিত জাতিগুলোকে ‘অসভ্য’ ও ‘বর্বর’ সাব্যস্ত করে তাদের ওপর তথাকথিত ‘মর্ডানিটি’ (আধুনিকতা) ‘এনলাইটমেন্ট’ (আলোকায়ন), ‘সিভিলাইজেশন’ (সভ্যতা), ‘হোয়াইট সুপ্রিমেসি’ (শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ) চাপিয়ে দিয়েছিল। তেমনি প্রধান উপদেষ্টা ক্ষমতার মসনদে বসে অবিবেচনাপ্রসূত ঔপনিবেশিক অপরায়নের ছাঁচেই কথা বলেছেন। মনে রাখা দরকার, তিনি একটি সরকারের প্রধান নির্বাহী হলেও এটি তার অস্থায়ী পরিচয়। সারা বিশ্বেই তিনি একজন স্বনামধন্য একাডেমিশিয়ান ও সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে সমাদৃত। এমন এক বর্ণিল একাডেমিক পরিচয় থাকার পরও তিনি কী করে উপনিবেশজাত শব্দসম্ভারে তার বক্তৃতা রাখতে পারলেন, তা আমাদের কাছে বিস্ময়কর লেগেছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এমন শব্দচয়নের বিরোধিতা করে তার এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
এনএন/ ১৯ অক্টোবর ২০২৫




মন্তব্য করুন