ঢাকা, ৩০ নভেম্বর – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, সমুদ্রের মাছের সংস্থান প্রকৃতির অমূল্য দান হলেও অতি আহরণ, অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ এবং ক্ষতিকর জালের ব্যবহারের কারণে সামুদ্রিক মাছের সংস্থান কমে যাচ্ছে। সম্প্রতি একটি সমুদ্র জরিপের ফল বাংলাদেশকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘ইকোসিস্টেম অ্যাপ্রোচ টু ফিশারিজ-নানসিন সার্ভে ২০২৫’ বাংলাদেশে সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনার টেকসই অগ্রগতির জন্য জরিপের ফল ও করণীয় বিষয়ক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
৭ নভেম্বর উপলক্ষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরার কারণে জরিপে দেখা গেছে— সামগ্রিকভাবে মাছের স্টক কমছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, ২৭৩টি শিল্প ট্রলারের মধ্যে ৭২টি ট্রলার সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, তবে সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় অনাকাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা ও অপচয় বাড়ছে।
মৎস্য উপদেষ্টা বলেন, বঙ্গোপসাগরে কোথাও কোথাও অক্সিজেন কম আবার কোথাও অক্সিজেন স্বল্প অঞ্চল বৃদ্ধি, মাইক্রোপ্লাস্টিকের উচ্চ ঘনত্ব এবং জেলিফিশের অস্বাভাবিক বিস্তার—এই সতর্ক সংকেতগুলো স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, আমাদের সামুদ্রিক পরিবেশ গুরুতর ঝুঁকির মুখে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সাগর আমাদের অমূল্য সম্পদ, কিন্তু আমাদেরই অব্যবস্থাপনা তার ক্ষতি ডেকে আনছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের প্রাপ্য সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে। তিনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রলারের লাইসেন্স প্রদান কঠোরভাবে সীমিত করা এবং ট্রলারভিত্তিক মৎস্য আহরণের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার তাগিদ দেন ।
নরওয়ে সরকার ও এফএওকে ২০২৭/২০২৮ সালের পরবর্তী সমুদ্র জরিপে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান মৎস্য উপদেষ্টা। পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব গবেষণা জাহাজ প্রাপ্তির প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট
এনএন/ ৩০ নভেম্বর ২০২৫




মন্তব্য করুন