হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

প্রতিদিন প্রাণহানি : মৃত্যুর করিডোর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার::

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার::

শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক এখন যেন নীরব এক মৃত্যুকূপ। গত ১১ মাসে ১৫৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৫০ জন, আহত হয়েছে ৩৫১ জন। অপ্রশস্ত সড়ক, বিপজ্জনক বাঁক, লবণাক্ততার কারণে পিচ্ছিল অবস্থা, ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম—সব মিলিয়ে মহাসড়কটি পরিণত হয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুটে। আর এ পরিস্থিতির প্রতিবাদেই সম্প্রতি চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতু এলাকায় তিন ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচিতে ফেটে পড়ে জনরোষ।

‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সেতুর দু’পাশে রশি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো গাড়িকেই যেতে দেওয়া হয়নি। সেতুর ওপর ব্যানার-ফেস্টুন, স্লোগানে মুখর জনতা—সবাইয়ের একটিই দাবি, “মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করতে হবে অবিলম্বে।” দীর্ঘ যানজটে পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। অনেককে পায়ে হেঁটে অবরোধ এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়। পরিশেষে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।

অবরোধে অংশ নেওয়া মানুষের বক্তব্যে ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের চেপে রাখা ক্ষোভ ও অসহায়তা। খুরুশকুলের রফিক আহমদ বলেন, “আমরা এই সড়ক দিয়ে ঘর থেকে বের হলে নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি না, আবার ফিরতে পারব কি না। প্রতিদিনই ২-৩টা দুর্ঘটনার খবর শুনি।” ঈদগাঁর ইয়াছিন আরাফাতের অভিযোগ, “বাংলাদেশের আর কোথাও মহাসড়কে এত ৩ চাকার গাড়ি চলে না। এগুলো সরাতে না পারলে দুর্ঘটনা কমবে কীভাবে?” চকরিয়ার ইদ্রিস আলী বলেন, “রাস্তা সরু, বাঁক বেশি, লবণবোঝাই ট্রাক থেকে পানি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল—সব মিলিয়ে ভয়ংকর অবস্থা।” একই অভিযোগ বাসচালক রহিম উদ্দিন ও স্থানীয় মোহাম্মদ সাইফেরও। তাদের দাবি—ফিটনেসবিহীন গাড়ি, নিষিদ্ধ ইজিবাইক ও সিএনজি মহাসড়কজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই।

হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক জিয়া উদ্দিন জানান, বেপরোয়া গতি ৭০–৮০ কিলোমিটারের ওপরে হলে মামলা দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ ৩ চাকার গাড়ির বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। তবে চার কিংবা ছয় লেনে উন্নীত না হলে দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন কর্তৃপক্ষ। বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “যানবাহনের চাপ যে পর্যায়ে গেছে, এই সড়ক অবিলম্বে ৬ লেনে উন্নীত করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।”

আরও পড়ুন

কানাডার নতুন বাজেটে কার ভাগ্যে কতটা প্রাপ্তি

সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এখন ফাইনাল রিপোর্টের অপেক্ষা চলছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—প্রতিদিন ৩০–৩৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে এই মহাসড়ক দিয়ে, অথচ ধারণক্ষমতা মাত্র ১২–১৫ হাজার। লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, চকরিয়া, রামু—এসব অংশে যানবাহনের চাপ ও ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত maratmak পরিস্থিতি তৈরি হয়। সওজ ইতোমধ্যে ২১টি স্থানকে ‘হাই রিস্ক জোন’ হিসেবে শনাক্ত করেছে।

১৯৮০-এর দশকে নির্মিত এই সড়ক তখনকার যানবাহনচাপের তুলনায় এখন বহুগুণ বেশি চাপ বহন করছে। অভিযোগ রয়েছে— চলতি বছর ছোট ছোট দুর্ঘটনা মিলিয়ে প্রকৃত দুর্ঘটনার সংখ্যা ২০০–এর কাছাকাছি। ৫ নভেম্বর চকরিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে ছিটকে নেওয়া মারসা পরিবহনের গাড়িটির রোড পারমিট দুই মাস আগে শেষ হয়েছিল—যা সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতা প্রকাশ করে।

গত তিন বছরে লোহাগাড়ায় ১১ বার, চকরিয়ায় ৮ বার, কক্সবাজারে ৭ বার এবং রামুতে ৫ বার রাস্তা অবরোধ, মানববন্ধন ও গণসমাবেশ হয়েছে। জনতার দাবি একটাই—“ছয় লেন ছাড়া বিকল্প নেই।” একই পরিবারের পাঁচজন পর্যটক নিহত হওয়ার পর চট্টগ্রামের চেরাগি পাহাড়েও মানুষ রাস্তায় নামেন। তাদের বক্তব্য—“এই সড়কে প্রতিটি দিন মানেই অনিশ্চিত মৃত্যু।”

অন্যদিকে পরিবেশগত উদ্বেগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চুনতি অভয়ারণ্য, মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান ও ফাঁসিয়াখালী অভয়ারণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলে বেলা ১৩ দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। বন বিভাগও স্পষ্ট জানিয়েছে—বনের ভেতর দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ নয়; প্রয়োজনে আন্ডারপাস বা উড়ালসড়ক করা হোক, কিন্তু বনভূমি কাটা যাবে না।

এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ধীরগতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন পাওয়া ‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট–১’–এ চার লেন বাইপাস, ছয় লেন ফ্লাইওভারসহ ২৩.৫২ কিলোমিটার উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা থাকলেও এক বছরে টেন্ডার পর্যন্ত আহ্বান করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধীরগতি শুধু মানুষের জীবনই ঝুঁকিতে ফেলছে না, জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুতর প্রভাব ফেলছে। পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালামাল পরিবহন, রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রম—সবই এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল।

ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাম্প্রতিক মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনশহরের প্রধান প্রবেশপথ যদি মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়, তবে দেশের উন্নয়নই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদ উদ্দিন খান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা শুধু সময়ের দাবি নয়—এটি জীবনরক্ষার প্রশ্ন।”

সবশেষে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারবাসীর প্রশ্ন—উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল আগে নড়বে, নাকি এই মহাসড়ক থেকে আবারও লাশই উঠবে? মানুষের কাছে মৃত্যুর মিছিল আর প্রকল্পের ধীরগতির কোনো ব্যাখ্যাই আর গ্রহণযোগ্য নয়।

coxsbazarpost

coxsbazarpost

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

প্রতিদিন প্রাণহানি : মৃত্যুর করিডোর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

প্রতিদিন প্রাণহানি : মৃত্যুর করিডোর চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক

প্রতিবেদক: সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার:: | প্রকাশিত: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন
Print Image
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক এখন যেন নীরব এক মৃত্যুকূপ। গত ১১ মাসে ১৫৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ১৫০ জন, আহত হয়েছে ৩৫১ জন। অপ্রশস্ত সড়ক, বিপজ্জনক বাঁক, লবণাক্ততার কারণে পিচ্ছিল অবস্থা, ফিটনেসবিহীন ও অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম—সব মিলিয়ে মহাসড়কটি পরিণত হয়েছে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী রুটে। আর এ পরিস্থিতির প্রতিবাদেই সম্প্রতি চকরিয়ার মাতামুহুরী সেতু এলাকায় তিন ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচিতে ফেটে পড়ে জনরোষ। ‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার সড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’-এর ব্যানারে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সেতুর দু’পাশে রশি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো গাড়িকেই যেতে দেওয়া হয়নি। সেতুর ওপর ব্যানার-ফেস্টুন, স্লোগানে মুখর জনতা—সবাইয়ের একটিই দাবি, “মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করতে হবে অবিলম্বে।” দীর্ঘ যানজটে পর্যটকসহ সাধারণ যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। অনেককে পায়ে হেঁটে অবরোধ এলাকা অতিক্রম করতে দেখা যায়। পরিশেষে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে তিন ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা। অবরোধে অংশ নেওয়া মানুষের বক্তব্যে ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের চেপে রাখা ক্ষোভ ও অসহায়তা। খুরুশকুলের রফিক আহমদ বলেন, “আমরা এই সড়ক দিয়ে ঘর থেকে বের হলে নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি না, আবার ফিরতে পারব কি না। প্রতিদিনই ২-৩টা দুর্ঘটনার খবর শুনি।” ঈদগাঁর ইয়াছিন আরাফাতের অভিযোগ, “বাংলাদেশের আর কোথাও মহাসড়কে এত ৩ চাকার গাড়ি চলে না। এগুলো সরাতে না পারলে দুর্ঘটনা কমবে কীভাবে?” চকরিয়ার ইদ্রিস আলী বলেন, “রাস্তা সরু, বাঁক বেশি, লবণবোঝাই ট্রাক থেকে পানি পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল—সব মিলিয়ে ভয়ংকর অবস্থা।” একই অভিযোগ বাসচালক রহিম উদ্দিন ও স্থানীয় মোহাম্মদ সাইফেরও। তাদের দাবি—ফিটনেসবিহীন গাড়ি, নিষিদ্ধ ইজিবাইক ও সিএনজি মহাসড়কজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক জিয়া উদ্দিন জানান, বেপরোয়া গতি ৭০–৮০ কিলোমিটারের ওপরে হলে মামলা দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ ৩ চাকার গাড়ির বিরুদ্ধেও অভিযান চলছে। তবে চার কিংবা ছয় লেনে উন্নীত না হলে দুর্ঘটনা কমানোর চেষ্টায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন কর্তৃপক্ষ। বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, “যানবাহনের চাপ যে পর্যায়ে গেছে, এই সড়ক অবিলম্বে ৬ লেনে উন্নীত করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।” সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে। এখন ফাইনাল রিপোর্টের অপেক্ষা চলছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—প্রতিদিন ৩০–৩৫ হাজার যানবাহন চলাচল করে এই মহাসড়ক দিয়ে, অথচ ধারণক্ষমতা মাত্র ১২–১৫ হাজার। লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, চকরিয়া, রামু—এসব অংশে যানবাহনের চাপ ও ওভারটেকিংয়ের কারণে প্রতিনিয়ত maratmak পরিস্থিতি তৈরি হয়। সওজ ইতোমধ্যে ২১টি স্থানকে ‘হাই রিস্ক জোন’ হিসেবে শনাক্ত করেছে। ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত এই সড়ক তখনকার যানবাহনচাপের তুলনায় এখন বহুগুণ বেশি চাপ বহন করছে। অভিযোগ রয়েছে— চলতি বছর ছোট ছোট দুর্ঘটনা মিলিয়ে প্রকৃত দুর্ঘটনার সংখ্যা ২০০–এর কাছাকাছি। ৫ নভেম্বর চকরিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে ছিটকে নেওয়া মারসা পরিবহনের গাড়িটির রোড পারমিট দুই মাস আগে শেষ হয়েছিল—যা সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভয়াবহ দুর্বলতা প্রকাশ করে। গত তিন বছরে লোহাগাড়ায় ১১ বার, চকরিয়ায় ৮ বার, কক্সবাজারে ৭ বার এবং রামুতে ৫ বার রাস্তা অবরোধ, মানববন্ধন ও গণসমাবেশ হয়েছে। জনতার দাবি একটাই—“ছয় লেন ছাড়া বিকল্প নেই।” একই পরিবারের পাঁচজন পর্যটক নিহত হওয়ার পর চট্টগ্রামের চেরাগি পাহাড়েও মানুষ রাস্তায় নামেন। তাদের বক্তব্য—“এই সড়কে প্রতিটি দিন মানেই অনিশ্চিত মৃত্যু।” অন্যদিকে পরিবেশগত উদ্বেগও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চুনতি অভয়ারণ্য, মেধাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান ও ফাঁসিয়াখালী অভয়ারণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলে বেলা ১৩ দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে। বন বিভাগও স্পষ্ট জানিয়েছে—বনের ভেতর দিয়ে সড়ক সম্প্রসারণ নয়; প্রয়োজনে আন্ডারপাস বা উড়ালসড়ক করা হোক, কিন্তু বনভূমি কাটা যাবে না। এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসনিক ধীরগতি নিয়ে হতাশা বাড়ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুমোদন পাওয়া ‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার হাইওয়ে ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট–১’–এ চার লেন বাইপাস, ছয় লেন ফ্লাইওভারসহ ২৩.৫২ কিলোমিটার উন্নয়নকাজের পরিকল্পনা থাকলেও এক বছরে টেন্ডার পর্যন্ত আহ্বান করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধীরগতি শুধু মানুষের জীবনই ঝুঁকিতে ফেলছে না, জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুতর প্রভাব ফেলছে। পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ প্রকল্পের মালামাল পরিবহন, রোহিঙ্গা ত্রাণ কার্যক্রম—সবই এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাম্প্রতিক মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটনশহরের প্রধান প্রবেশপথ যদি মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়, তবে দেশের উন্নয়নই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরিদ উদ্দিন খান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা শুধু সময়ের দাবি নয়—এটি জীবনরক্ষার প্রশ্ন।” সবশেষে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারবাসীর প্রশ্ন—উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল আগে নড়বে, নাকি এই মহাসড়ক থেকে আবারও লাশই উঠবে? মানুষের কাছে মৃত্যুর মিছিল আর প্রকল্পের ধীরগতির কোনো ব্যাখ্যাই আর গ্রহণযোগ্য নয়।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×