হোম ট্রেন্ডিং লাইভ অনুসন্ধান মেনু
প্রতি মুর্হুতের কক্সবাজারকে জানুন
🔔 নোটিফিকেশন সাবস্ক্রিপশন ×
🔔

নতুন খবর সবার আগে আপনার ফোনে পান!

উখিয়ার ৪২ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ইউএনও রিফাত আসমা : কামরুল হোসেন বদলী

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার :

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার :

শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

উখিয়ার ৪২ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন একজন নারী—৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা রিফাত আসমা। ১৯৮৩ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো নারী এই পদে আসীন হতে যাচ্ছেন, যা উখিয়ার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো: রিদুয়ানুর ইসলাম স্বাক্ষরে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে রিফাত আসমাসহ তিনজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন উপজেলায় ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে উখিয়ার বর্তমান ইউএনও আলোচিত ও সুনামধন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরীকে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে।

রিফাত আসমা বর্তমানে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ তিনি সেখানে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে বরকল উপজেলার ইউএনও’র অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। একই সাথে দুই উপজেলার ইউএনও হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা তাকে আরও দক্ষ ও পরিণত করেছে, যা সীমান্তবর্তী, রোহিঙ্গা সংকট–নির্ভর এবং জটিল উখিয়ার দায়িত্ব পালনে তাকে আরও প্রস্তুত করেছে।

২০১৭ সালের ২ মে পাবনা জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলা এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ পথচলায় তার প্রশাসনিক সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ ও মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্যভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে।

সীমান্তবর্তী অবস্থান, বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা শিবির, আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম, মানবিক সহায়তার ঘাটতি, আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও মানবপাচার, জলবায়ু ঝুঁকি—এসব কারণে উখিয়াকে বাংলাদেশের অন্যতম কঠিন প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাসের কারণে নিরাপত্তা, সেবা ব্যবস্থাপনা, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ইউএনওর জন্য প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সমস্যা, উন্নয়ন প্রকল্প, বন ও পরিবেশ রক্ষা, রাজনৈতিক চাপ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও পরিচালনার জন্য বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

হাসপাতালে ভর্তি শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

এই পরিস্থিতিতে একজন নারী ইউএনওর উখিয়ায় আগমনকে অনেকেই নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রা ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। চট্টগ্রামের লালখান বাজারের বাসিন্দা রিফাত আসমা উখিয়ার মতো আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত, রাজনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত এবং প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এলাকায় দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রশাসনে লিঙ্গ সমতা ও নারী ক্ষমতায়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার অভিজ্ঞতা, কঠোর পরিশ্রম, নেতৃত্ব এবং দায়িত্ববোধ উখিয়ার প্রশাসনে নতুন গতি আনবে!

তবে অনেকেই মনে করছেন, রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে জটিল প্রশাসনিক বাস্তবতা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি কি এই চ্যালেঞ্জ জয় করে জনবান্ধব সফল প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন—নাকি উখিয়ার কঠিন বাস্তবতা তার পদচারণাকে ঝুকিপূর্ণ করবে—তা সময়ই বলে দেবে। তবুও উখিয়াবাসী নতুন আশা নিয়ে তাকে স্বাগত জানাচ্ছে, বিশ্বাস করছে একজন দক্ষ নারী কর্মকর্তার নেতৃত্ব উখিয়ার প্রশাসনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

anwar

anwar

কক্সবাজারের স্থানীয় সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদের বিশ্বস্ত লেখক।

সত্যতা যাচাই: এই সংবাদটি সম্পাদকীয় নীতি অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

সংবাদ কিউআর কোড

নিচের QR কোডটি স্ক্যান করে যেকোনো মোবাইলে সংবাদটি সরাসরি ওপেন করুন।

ফটোকার্ড স্টুডিও

২য় লীড নিউজ
Card Image

উখিয়ার ৪২ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ইউএনও রিফাত আসমা : কামরুল হোসেন বদলী

www.coxsbazarposts.com সত্যের সন্ধানে অনুক্ষণ

প্রিন্ট প্রিভিউ

Logo www.coxsbazarposts.com

উখিয়ার ৪২ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী ইউএনও রিফাত আসমা : কামরুল হোসেন বদলী

প্রতিবেদক: সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার : | প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন
Print Image
উখিয়ার ৪২ বছরের প্রশাসনিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন একজন নারী—৩৫তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা রিফাত আসমা। ১৯৮৩ সালে উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম কোনো নারী এই পদে আসীন হতে যাচ্ছেন, যা উখিয়ার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ১১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো: রিদুয়ানুর ইসলাম স্বাক্ষরে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে রিফাত আসমাসহ তিনজন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন উপজেলায় ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়। একই প্রজ্ঞাপনে উখিয়ার বর্তমান ইউএনও আলোচিত ও সুনামধন্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরীকে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় বদলি করা হয়েছে। রিফাত আসমা বর্তমানে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ তিনি সেখানে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে বরকল উপজেলার ইউএনও’র অতিরিক্ত দায়িত্বও পালন করছেন। একই সাথে দুই উপজেলার ইউএনও হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা তাকে আরও দক্ষ ও পরিণত করেছে, যা সীমান্তবর্তী, রোহিঙ্গা সংকট–নির্ভর এবং জটিল উখিয়ার দায়িত্ব পালনে তাকে আরও প্রস্তুত করেছে। ২০১৭ সালের ২ মে পাবনা জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি চাকরি জীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলা এবং কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ পথচলায় তার প্রশাসনিক সক্ষমতা, নেতৃত্বগুণ ও মাঠপর্যায়ের কাজের অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্যভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। সীমান্তবর্তী অবস্থান, বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা শিবির, আন্তর্জাতিক সংস্থার কার্যক্রম, মানবিক সহায়তার ঘাটতি, আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক ও মানবপাচার, জলবায়ু ঝুঁকি—এসব কারণে উখিয়াকে বাংলাদেশের অন্যতম কঠিন প্রশাসনিক এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাসের কারণে নিরাপত্তা, সেবা ব্যবস্থাপনা, সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ইউএনওর জন্য প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সমস্যা, উন্নয়ন প্রকল্প, বন ও পরিবেশ রক্ষা, রাজনৈতিক চাপ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও পরিচালনার জন্য বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে একজন নারী ইউএনওর উখিয়ায় আগমনকে অনেকেই নারী নেতৃত্বের অগ্রযাত্রা ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। চট্টগ্রামের লালখান বাজারের বাসিন্দা রিফাত আসমা উখিয়ার মতো আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত, রাজনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত এবং প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এলাকায় দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রশাসনে লিঙ্গ সমতা ও নারী ক্ষমতায়নের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার অভিজ্ঞতা, কঠোর পরিশ্রম, নেতৃত্ব এবং দায়িত্ববোধ উখিয়ার প্রশাসনে নতুন গতি আনবে! তবে অনেকেই মনে করছেন, রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে জটিল প্রশাসনিক বাস্তবতা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি কি এই চ্যালেঞ্জ জয় করে জনবান্ধব সফল প্রশাসক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন—নাকি উখিয়ার কঠিন বাস্তবতা তার পদচারণাকে ঝুকিপূর্ণ করবে—তা সময়ই বলে দেবে। তবুও উখিয়াবাসী নতুন আশা নিয়ে তাকে স্বাগত জানাচ্ছে, বিশ্বাস করছে একজন দক্ষ নারী কর্মকর্তার নেতৃত্ব উখিয়ার প্রশাসনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

ডাইরেক্ট মেসেজ

Telegram Direct Message WhatsApp Direct Message

বাংলা ফন্ট কনভার্টার (বিজয় ⇄ ইউনিকোড)

×

তথ্য

×