ঢাকা, ০৮ জানুয়ারি – যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত আরোপের সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তবে তিনি এটিকে অস্বাভাবিক নয় বলেও উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির দাবিও
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়; যেসব দেশের অভিবাসন নিয়ে সমস্যা রয়েছে, সেসব দেশের একটি তালিকার অংশ হিসেবে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুবিধাভোগীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি—এ বিষয়টি মার্কিন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই দুঃখজনক ও আমাদের জন্য কষ্টকর। তবে এটা হঠাৎ বা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বিষয়টি যদি গত এক বছরের মধ্যে ঘটত, তাহলে বর্তমান সরকারের দায় থাকত বলা যেত। কিন্তু এই প্রক্রিয়া বহুদিন ধরে চলমান।”
তিনি আরও বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, যার দায় কোনো একক সরকারের নয়। মানুষের চলাচল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা কোনো সরকারেরই নেই। ফলে নীতিগত দায় পূর্ববর্তী সব সরকারের ওপরই বর্তায়।
ভিসা বন্ড আরোপ বন্ধে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিষয়টি সদ্য কার্যকর হয়েছে। সরকার কূটনৈতিক ও প্রচলিত পদ্ধতিতে চেষ্টা করবে, যাতে বাংলাদেশ এ শর্ত থেকে অব্যাহতি পায়।
উল্লেখ্য, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৩৮টি দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড দিতে হবে। নতুন তালিকায় বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম যুক্ত করা হয়েছে, যা আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
এনএন/ ০৮ জানুয়ারি ২০২৬




মন্তব্য করুন